সিলেটে গ্যাস সংকটে ব্যাহত শিল্প উৎপাদন, দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা

সিলেটের একটি গ্যাস ভবন
এখন জনপদে
অর্থনীতি
0

লোডশেডিংয়ের পর এবার গ্যাস সংকটে ভুগছে সিলেটের শিল্পকারখানা। গ্যাসের চাপ কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস সংকটে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, শিল্পখাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, এলএনজি সংকটের কারণে দ্রুত পুরোপুরি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব না হলেও শিল্পের উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

প্রবাসী আয়ে সমৃদ্ধ সিলেট সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। সিলেটের দুটি বিসিক শিল্পনগরীতে বর্তমানে ৮৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। তবে গ্যাসনির্ভর এসব কারখানা এখন বড় সংকটে।

প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসের চাপ না থাকায় কমছে উৎপাদন সক্ষমতা। উদ্যোক্তাদের দাবি, চলতি মাসেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

উদ্যোক্তারা বলেন, গ্যাসও লাগাইলাম, বার্নারও লাগাইলাম। তাহলে আমাদের অপরাধটা? আগে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস ব্যবহার করতাম। কিন্তু হুট করে এদের রানিং অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমাদের মালের সমস্যা দেখা দেয়। যে লেয়ার আছে, উপরে পুড়ে যায়, নিচে ভালো থাকে, মিডিলে ভালো থাকে, এরকম মানে উল্টাপাল্টা হয়ে যায় চাকাগুলা। তখন দেখা যায় অনেক প্রোডাক্ট আপনার নষ্ট হয়ে যায়।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, কোনো কোনো কারখানায় গ্যাসের চাপ ৫ থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমেছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য লোড কমানোর নোটিশ দিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, সংকটের মধ্যে এটি যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

সিলেট বিসিক শিল্পনগরীর সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম বলেন, যার যে লোড আছে, এই লোডের আমরা ৫০%-এর উপরে যেন না চালাই। তো যদি আমি ৫০%-এর উপরে না চালাই, তাহলে আমার যে স্টাফ রয়েছে, আমার যে এস্টাবলিশমেন্ট রয়েছে, এটার এইটা ৫০% প্রোডাকশন করলে আমার তো ব্রেক-ইভেনই আসবে না।

সিলেট বিসিক শিল্পনগরীর নির্বাহী সদস্য মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে সরকারের কাছে, এই যে এই মানুষগুলোর কর্মসংস্থান, দেশের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য গ্যাসের সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ যেন অব্যাহত রাখে।

গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিসিক কর্তৃপক্ষ।

সিলেট বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সুহেল হাওলাদার বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তাতে ৫ পিএসআই প্রেশার স্বাভাবিকভাবে থাকা লাগা লাগে মানে থাকা দরকার। তো অনেক অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে এই প্রেশারটা কখনো কখনো ৩, কখনো কখনো ২ বা তারও নিচে নেমে যায়। তো যে প্রেশারের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে সরবরাহ আছে, প্রেশার ফল করে যায়।

এদিকে শিল্পমন্ত্রী বলছেন, আগামী দুই বছরের আগে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট পুরোপুরি সমাধান না হলেও সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গ্যাসের অভাবে মিল-ফ্যাক্টরিগুলি সাফার করছে, এটা তো আর বাস্তবতা। এটা তো আর এখানে দ্বিমত করার কিছু নাই, এটা সবাই জানি আমরা। তো তারপরও সরকার চেষ্টা করছে এরকম কোন একটা কোনো একটা সমাধান, আপতকালীন কোনো সমাধান করে পরিস্থিতির কিছু উত্তরণ করা যায় কিনা, সেটা নিয়ে কাজ করছে।

চলমান সংকট মোকাবিলায় শিল্পকারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের দাবি উদ্যোক্তাদের। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে কমবে উৎপাদন, বাড়বে খরচ। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোক্তা পর্যায়েও।

ইএ