ফ্ল্যাট বা প্লট কিনবেন? ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন দিচ্ছে যেসব ব্যাংক

ফ্ল্যাট–প্লট
ব্যাংকপাড়া
অর্থনীতি
0

নিজের একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ এখন আরও সহজ হতে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের (Bangladesh Bank) নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আবাসন ঋণ (Home Loan) হিসেবে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মূলত আবাসন খাতকে চাঙা করতে এবং মধ্যবিত্তের আবাসন স্বপ্ন পূরণ নিশ্চিত করতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কে কত টাকা ঋণ পাবেন? (Loan Amount and Eligibility)

আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত বিনিয়োগের অনুপাত হয় ৭০:৩০ (Debt-to-Equity Ratio 70:30)। অর্থাৎ, আপনার ফ্ল্যাটের দাম ১ কোটি টাকা হলে ব্যাংক আপনাকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে, বাকি ৩০ লাখ টাকা নিজের সঞ্চয় থেকে দিতে হবে। তবে ব্যাংকভেদে ঋণের সীমা নির্ধারিত হবে ওই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের (Non-Performing Loan - NPL) হারের ওপর:

  • খেলাপির হার ৫ শতাংশের নিচে হলে: ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ।
  • খেলাপির হার ৫-১০ শতাংশের মধ্যে হলে: ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ।
  • খেলাপির হার ১০ শতাংশের বেশি হলে: ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ।

আরও পড়ুন:

আবাসন ঋণের যোগ্যতা (Eligibility Criteria for Home Loan)

ঋণ পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২২ বছর হতে হবে এবং ঋণ পরিশোধের সময় বয়স ৬৫ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাসিক আয় (Monthly Income) ২৫ হাজার টাকা হওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারাও এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents)

ঋণ আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়:

  • ফ্ল্যাট বা জমি কেনার রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিপত্রের (Sale Agreement) সত্যায়িত কপি।
  • অনুমোদিত নকশা (Approved Plan) ও নামজারি খতিয়ান।
  • ১২ বছরের তল্লাশিসহ নির্দায় সনদ (Non-Encumbrance Certificate - NEC)।
  • ১২ মাসের ব্যাংক বিবরণী (Bank Statement) ও কর প্রদানের সনদ (TIN/Tax Certificate)।

আরও পড়ুন:

মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ (Mortgage Loan Details)

দীর্ঘমেয়াদী এই ঋণের জন্য স্থায়ী সম্পদ বা জমির দলিল জামানত (Collateral) রাখতে হয়। এই ঋণের মেয়াদ সাধারণত ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকরা এখন কম সুদে (Lower Interest Rate) ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

কোন ব্যাংক কত টাকা আবাসন ঋণ দিতে পারবে? জেনে নিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

আপনি যদি ফ্ল্যাট বা প্লট কেনার জন্য ব্যাংক ঋণের (Home Loan) পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনার জন্য বড় খবর। সব ব্যাংক এখন চাইলেই আপনাকে বড় অংকের ঋণ দিতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের (Bangladesh Bank) নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংক আপনাকে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ দিতে পারবে, তা নির্ভর করবে ওই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের (Non-Performing Loan - NPL) হারের ওপর।

আরও পড়ুন:

খেলাপি ঋণের হারের ওপর ঋণের সীমা (Loan Limit based on NPL)

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:

৫ শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ: যেসব ব্যাংকের খেলাপির হার ৫ শতাংশের কম, তারা একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা (4 Crore BDT) পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে।

৫ থেকে ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ: যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এই সীমার মধ্যে, তারা সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা (3 Crore BDT) পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।

১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ: যেসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক দুর্বল এবং খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের উপরে, তারা কোনোভাবেই ২ কোটি টাকার (2 Crore BDT) বেশি ঋণ দিতে পারবে না।

ব্যাংকগুলোর তোড়জোড় (Bank Initiatives)

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনার পর দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো (Commercial Banks) তাদের নতুন ঋণের সীমা নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জানাচ্ছে যে তারা সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত আবাসন সুবিধা দিতে সক্ষম। আবাসন খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিয়মের ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং স্বচ্ছল ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা কম সুদে (Low Interest Rate) বড় অংকের ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে দেশের আবাসন খাত (Real Estate Sector) আরও চাঙা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এসআর