বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বড় খেসারত দিচ্ছে দেশ—অর্থমন্ত্রী

বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী
দেশে এখন , বাজেট
অর্থনীতি
0

বিগত সরকারের অপরিকল্পিত নীতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ অপচয় ও পাচার হয়েছে। বর্তমানে এই খাতে বছরে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি এবং এ খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা আমাদের ওপর চেপে বসেছে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি। সরকার এখন বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা এবং ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরানো হবে।

সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে উৎপাদন করা হবে।’ এছাড়া ওই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি নাগাদ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি এই খাতে নিবিড় মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।’

এএম