২০২৬-২৭ বাজেট ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক মহলের

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্য শুরু করেছেন
বাজেট
অর্থনীতি
0

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। বাজেটকে জনবান্ধব আখ্যায়িত করে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন। অন্যদিকে জামায়াত বলছে, দুর্বল অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চিন্তাশীল বাজেট হলেও বাস্তবায়নের আর্থিকভিত্তি দুর্বল। পরিচালন ব্যয়ের লাগাম টানাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।

আসছে অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর অনেকেই বাজেটের কাঠামো ও লক্ষ্যকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাজেট বাস্তবায়ন চাপে থাকা ও সীমাবদ্ধতার অর্থনীতিতে কতটা সম্ভব এ নিয়েই এখন আলোচনা ঘুরছে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে।

বাজেট ঘোষণার পরপরই, একে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রদল। আর পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। এসময়, নেতারা বলেন, শিক্ষার্থী ও জনবান্ধব হয়েছে এই বাজেট।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে এক সমাবেশে বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, এমন ঋণনির্ভর ঘাটতি বাজেট দুর্বল অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এদিকে বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে মন্তব্য করলেও, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি হওয়ায় সেবা খাতে কিছুটা স্বস্তি দিবে বলে জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘বাজেটে বক্তৃতার মাধ্যমে যেটা স্পষ্ট হয়েছে, এই বাজেটটি হচ্ছে একটি বিশাল ঋণনির্ভর বাজেট। এটা একটি বড় ধরনের ঘাটতি বাজেট। অত্যন্ত দুর্বল ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কখনো সম্ভব নয়।’

এদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এটি একটি চিন্তাশীল বাজেট হলেও বাস্তবায়নের আর্থিকভিত্তি দুর্বল। পরিচালন ব্যয়ের লাগাম টানাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতি অধ্যাপক আবু আহমেদ। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, রাজস্ব আদায়ের নতুন ক্ষেত্র বাড়ানো একটি ইতিবাচক দিক।

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ধরনের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেটা মনে হয় যে হয়তো যদি আর্থিক বিপত্তি দেখা যায়, তাহলে এইগুলির ক্ষেত্রে কাটছাঁট হবে।’

আরও পড়ুন:

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডিসিসিআই বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করলেও এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘ডিসিশনটা থেকে সরকার যদি পুনর্বিবেচনা করে অ্যাটলিস্ট আরও দুই বছরের জন্য ০ দশমিক প্রিভেইলিং রেটেই রাখে, সেটা ব্যবসার জন্য সুবিধা বয়ে নিয়ে আসবে।’

রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডা জানায়, নতুন বাজেটে ১৫০০ সিসির রিকন্ডিশন গাড়িতে দাম বৃদ্ধি পাবে, যা মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎসাহিত করার কথা থাকলেও উচ্চ দামের কারণে তা সাধারণের নাগালের বাইরে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘একটা ১৫০০ সিসির গাড়িতে প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ডিউটি বেড়ে যাচ্ছে, যা মধ্যবিত্তরা বেশি কিনে। এইটা সবচেয়ে বেশি, আর বাকিগুলোতে অনেক অত বেশি না, চিনে ২ পার্সেন্ট করে ইয়ে বেড়েছে, রেগুলেটরি ডিউটি।’

সংগঠনটি মনে করছে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও ইলেকট্রিক যানবাহন ও রিকশা খাতকে লাইসেন্স ও করের আওতায় এনে আরও বাস্তবভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা যেত।

এফএস