যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ, হুতিদের আক্রমণে বন্ধ হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর। এতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে যোগ হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ঘুরপথে গন্তব্যে যেতে বেড়েছে সময়, জ্বালানি ব্যয়, বীমা ব্যয় এবং জাহাজ পরিচালনার খরচ। এ বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে গত কয়েক সপ্তাহে এশিয়া থেকে ইউরোপ- যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে পণ্য পরিবহনের জাহাজ ও কনটেইনার ভাড়া দুটোই বাড়িয়েছে বিভিন্ন শিপিং লাইন।
এর মধ্যে বেশি বেড়েছে কনটেইনার ভাড়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ৪ হাজার ডলারের ভাড়া এখন প্রায় ১০ হাজার ডলার। এছাড়া চীন ও ভিয়েতনাম থেকে রপ্তানি বাড়ায় আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো কন্টেইনার দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিচ্ছে সে দেশগুলোকে। তাই বিশ্বজুড়েই বাড়তি কন্টেইনার ভাড়া।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ডিস্টেন্সের হিসাব করবেন, সময়ের হিসাব করবেন, জাহাজের হিসাব করবেন— একটা জাহাজ কোম্পানি তো লস দিয়ে আপনার জাহাজ ফ্রেট মেইনটেইন করবে না। সে মেইনটেইন করবে তার চলাচলের উপরে, তার খরচের উপরে। সেই জন্যই জাহাজের ফ্রেট বাড়াটাই স্বাভাবিক বলে আমি মনে করি। আমার মনে হয় এটা এ যুদ্ধকালীন সময়ের জন্যই। তারপরে আবার এটা ঠিক হয়ে যাবে।’
একই সঙ্গে তেলবাহী ট্যাংকার ও চাল, ডাল, সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজের ভাড়া বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের মূল্য বাড়ার সঙ্গে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ব্যয় মরার উপর খাড়ার ঘা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন যে ইলেক্ট্রিসিটি এবং সেই সঙ্গে গ্যাসের যে ক্রাইসিস— এটাও কিন্তু একটা আমাদের প্রোডাকশনে কিন্তু হ্যাম্পার করবে। এদিকেও আমাদের একটু খেয়াল দিতে হবে। যেহেতু আমাদের এলএনজির সমস্যা, এ সবকিছু মিলে— আপনার একটার সঙ্গে একটা। তো একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে সবকিছু কিন্তু আল্টিমেট ভোক্তার উপরেই পড়ে।’
আরও পড়ুন
এছাড়া কন্টেইনার সংকটে পণ্য জাহাজীকরণ বিলম্বিত হলে আন্তর্জাতিক অর্ডার বাতিলের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা। যুদ্ধাবস্থা আরো দীর্ঘায়িত হলে নিতে হবে বিকল্প বাণিজ্য কৌশল। না হলে নতুন সংকটে পড়বে দেশের অর্থনীতি।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমি নতুন অর্ডারগুলিকে আমি নেগোশিয়েট করতে পারব, কিন্তু যে অর্ডারগুলি আমি অলরেডি নিয়ে ফেলেছি— সেগুলি আমাকে পুরনো ফ্রেটেই পাঠানো হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মিলিয়ে এটা অনেকটা আশঙ্কাজনক পর্যায়েই দাঁড়াচ্ছে। এভাবে যদি বাড়তে থাকে, তাহলে কিন্তু ভবিষ্যতে আমাদের বাংলাদেশের জন্য এটা বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।’
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যাংকঋণের কিস্তির সুদ মওকুফসহ তিন মাস স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে দুই মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স।





