জ্বালানি সংকটে ভুগছে বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র; সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ

বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ সেচ ও উৎপাদন কার্যক্রম
দেশে এখন , পরিষেবা
অর্থনীতি
0

সুখবর নেই বিদ্যুতের গ্রাহকদের। দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই ভুগছে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে। যার প্রভাবে বাড়ছে লোডশেডিং ও ভোগান্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে বিদ্যুৎখাতের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অচলাবস্থা দূর করতে বিদ্যুৎ খাতের সব বিভাগকে সক্রিয় করাসহ সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিদ্যুৎ নিয়ে নেই কোনো সুখবর। ঘাটতি বাড়ায় ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ। গরমে পুড়ছে জনপদ- ফসলের ক্ষেত। উৎপাদন সংকটে ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

জ্বালানি সংকটে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না পিডিবি। গ্যাস সংকট, ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধিতে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত, তখন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পরিচালিত গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের খবর। এতে ১৪শ' ৯৬ মেগাওয়াটের সরবরাহ নেমেছে সাড়ে ৭শ' মেগাওয়াটে। সঙ্গে যান্ত্রিক ত্রুটিতে ব্যাহত হচ্ছে ১২৫ মেগাওয়াট সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়ার সবশেষ ইউনিটটি।

এমন অবস্থায় ৮-১০ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দিশেহারা উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ। পিজিসিবির তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো। তার বিপরীতে চাহিদা ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি।

পিডিবি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্রই ভুগছে গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল সংকটে।

এমন বাস্তবতায়, গ্রামের মানুষ যখন লোডশেডিংয়ে নাজেহাল তখন রাজধানীতে চলছে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা। ফুটপাত থেকে মার্কেট এমনকি বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা কমাতে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।

এদিকে, গ্যাস স্বল্পতার কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহতের কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমে এসেছে ৮৫-৯০ কোটি ঘনফুটে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, ‘সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে যদি আমরা উৎপাদন করতে যাই সেখানে আমাদের ২ হাজার এমএমসি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জ্বালানি বিভাগ এতটা গ্যাস আমাদের সরবরাহ করতে পারছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হচ্ছে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। তার মানে আমরা গ্যাস স্বল্পতার কারণে অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করতে পারছি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি’ আইনের আওতায় নিয়মবহিভূর্তভাবে উচ্চব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলেও অভিযোগ। অচলাবস্থা দূর করতে বিদ্যুৎ খাতের সব বিভাগকে সক্রিয় করাসহ সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞের।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, আজকের যে চিত্র তা হঠাৎ করে আকস্মিক নয়। এটা ধারাবাহিকভাবে এসেছে এবং আগের সরকারের আমলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এ সরকার ইনহেরিট করেছে, এ হচ্ছে অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘কাঠামোগতভাবে এসব সমস্যা তারা তৈরি করে এসেছে। এর মাধ্যমে লুণ্ঠনের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। মূল্যবৃদ্ধি না করে ঘাটতি পূরণে গণশুনানি করলেই জনগণের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে।’

পুরোনো নীতি ও পরিকাঠামো থেকে বেরিয়ে জ্বালানি খাতকে মুনাফামুখী নয়, বরং বিদ্যুতের সেবা বাড়ানোর পক্ষে মত বিশেষজ্ঞদের।

এএইচ