কেনো এখনো বেতন পাননি মাদ্রাসা শিক্ষকরা? ব্যাখ্যা দিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা
0

চলতি জুন মাসের ১৬ তারিখ পার হয়ে গেলেও দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীরা কেন এখনো বেতন পাননি তা নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপনের পর রাতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ও জরুরি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে (Why Madrasah Teachers Salary Delayed: Education Ministry Explains MEMIS and EFT Integration)।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দ্রুততম সময়ে পরিশোধ এবং স্থায়ীভাবে ভোগান্তি দূর করতে সরকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই একনেক (ECNEC) সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:

জাতীয় সংসদে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে ক্ষোভ (Discussions on Madrasah Teachers Salary Delay in Parliament)

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুঃখদশার কথা তুলে ধরে বলেন, "জুন মাসের ১৬ তারিখ হয়ে গেলেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে এখনো বেতন দেওয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে নিজের মায়ের চিকিৎসা পর্যন্ত করতে পারছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

সংসদে এই বিষয়টি আলোচনার ঝড় তোলার পরপরই রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই বিলম্বের আসল কারণ এবং সমাধানের রোডম্যাপ স্পষ্ট করা হয়।

বিলম্বের মূল কারণ: ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতি (Manual Salary Payment System Complications)

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মূলত ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটি পদ্ধতি (Electronic Fund Transfer - EFT system) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ার কারণেই এই বিলম্ব ঘটছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রথম ১০ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ বা এমইএমআইএস প্রকল্প (MEMIS Support Project) অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এই প্রকল্পে ইএফটি (EFT) কার্যক্রম বাদ দিয়েই এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। যার ফলে দেশের মাত্র আটটি বিভাগের আটটি মাদ্রাসায় পাইলটিং বা পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটি-তে বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল। এই ৮টি প্রতিষ্ঠান বাদে দেশের অন্য সব মাদ্রাসায় এখনো পুরোনো ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন (Manual or analog salary payment method) প্রসেস করা হচ্ছে। অ্যানালগ ফাইলিং ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়াকরণের জটিলতার কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের মূল বেতন বা এমপিও ছাড় হতে কয়েকদিন দেরি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

একনেকে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন: এবার ইএফটি-তে আসবে বেতন (MEMIS 3rd Amendment & ECNEC Approval for EFT)

মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি স্থায়ীভাবে দূর করতে বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ৯ জুন, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প (MEMIS Support 3rd Amendment Project) চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

বর্তমানে এই মেগা প্রজেক্টের বাজেট বাড়িয়ে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, এই সংশোধিত প্রকল্পে এবার শতভাগ ইএফটি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত (EFT implementation for madrasah teachers) করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষকরাও সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মুহূর্তের মধ্যে বেতন পেয়ে যাবেন।

মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই প্রকল্প পাসের মাধ্যমে ম্যানুয়াল ফাইলিংয়ের জটিলতা চিরতরে শেষ হবে এবং খুব দ্রুতই চলতি মাসের বকেয়া বেতন শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুন:

একনজরে ,মাদ্রাসা, শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার কারণ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা (Madrasah Teachers Salary Delay & Education Ministry Explanation at a Glance)

বিষয় ও সংসদীয় আলোচনা
(Topic & Parliament Discussion)
বিলম্বের মূল কারণ ও বর্তমান অবস্থা
(Main Reason & Current Status)
মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সমাধান
(Permanent Solution)

উত্থাপনকারী: মো. নুরুল আমীন (এমপি, রংপুর-৬)

অভিযোগ: ১৬ জুন পার হলেও মাদরাসা শিক্ষকরা চলতি মাসের বেতন পাননি।

তারিখ: ১৬ জুন, ২০২৬ (মঙ্গলবার)

* অ্যানালগ পদ্ধতি: দেশের মাত্র ৮টি মাদরাসায় পাইলটিং হিসেবে ইএফটি চালু আছে। বাকি সব প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বিল প্রসেস হওয়ায় দেরি হচ্ছে।

* অতীত জটিলতা: ২০১৭ সালের মূল 'এমইএমআইএস' (MEMIS) প্রজেক্টে বিগত সরকার ইএফটি (EFT) কার্যক্রম বাদ রাখায় এই সমস্যা তৈরি হয়।

খুব দ্রুতই চলতি মাসের বকেয়া বেতন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ছাড় করা হবে।

নতুন অনুমোদিত প্রকল্প
(New Approved Project)

"এমইএমআইএস (MEMIS) সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)" প্রকল্প। (গত ৯ জুন একনেক কর্তৃক অনুমোদিত)

বাজেট বৃদ্ধি:
১০ কোটি ১২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ কোটি ৭ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

স্থায়ী ডিজিটাল সমাধান: নতুন একনেক প্রজেক্টে শতভাগ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ থেকে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন সরকারি স্কুল-কলেজের মতোই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যথাসময়ে চলে আসবে।

এসআর