প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩৬ জন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৮৪১ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া পথচারী হিসেবে ১ হাজার ৯২৩ জন, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন, সাইকেল ও রিকশার আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে ১৫৪ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
সড়কভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আঞ্চলিক সড়কে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এরপর গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন এবং মহাসড়কে ১ হাজার ৪৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে অসাবধানতাবশত রেললাইন পারাপার বা কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, অনিরাপদ যানবাহন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনাই শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা, অনিরাপদ যানবাহন চলাচল বন্ধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আট বছর পার হলেও সড়ক পরিবহন খাতে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। কমিটি গঠন ও সুপারিশের বাইরে বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।





