প্রাকৃতিক দুর্যোগেই এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডের ফল বিপর্যয়?

চট্টগ্রাম
কয়েকজন শিক্ষার্থী
এখন জনপদে
শিক্ষা
0

চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমার পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা স্থগিত হওয়াকে দুষছেন পরীক্ষার্থীরা। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বর্ষায় পরীক্ষা নেয়ায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এ বছরও উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। ফলেও দেখা যায় মহানগরের তুলনায় খারাপ করেছে উপজেলার শিক্ষার্থীরাই। এমতাবস্থায় পরীক্ষা একটি উপযুক্ত সময়ে এগিয়ে আনার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের। আর এ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে এখন থেকেই প্রস্ততি নেয়ার তাগিদ তাদের।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই প্রাণের স্পন্দন। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পথে আটকে গেছেন বিপুল সংখ্যক তরুণ। চট্টগ্রামে এবার অকৃতকার্য প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী। ৪৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেননি। এর মধ্যে নগরীর তুলনায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উপজেলাগুলোতে বেশি। মহানগরে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হার মাত্র ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ, সেখানে চট্টগ্রাম জেলার অকৃতকার্যের হার ৫৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এলাকাভিত্তিক পাসের হার |ছবি: এখন টিভি

গেলো ২ জুলাই পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ পরই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলা। প্রবল বর্ষণ আর বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এসব এলাকা। ফলে বাধ্য হয়েই স্থগিত করতে হয় পরীক্ষা। প্রায় তিন সপ্তাহ স্থগিত থাকে পরীক্ষা। এতে প্রস্ততি আর মানসিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। যার প্রভাব পড়েছে ফলে— এমনটাই মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

গেলোবারও প্রবল বর্ষণ আর জলাবদ্ধতায় স্থগিত করতে হয় পরীক্ষা। বর্ষায় ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জল মাড়িয়ে কাকভেজা হয়ে যানজট ও জলজট পেরিয়ে বসতে হয় পরীক্ষায়। তাই বর্ষার আগেই পরীক্ষা আয়োজনের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আককাছ আহমদ বলেন, ‘বর্ষাকাল ছাড়া অন্য ঋতুতে উপযুক্ত সময়ে, যখন পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে, শান্ত থাকে; যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয়— এরকম সময়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।’

শিক্ষাবিদরা বলছেন, পরীক্ষা বিলম্বে বা শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ হলে বহু গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীর ঝরে পরার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও বিপুল এ মানবসম্পদ শ্রমবাজারে প্রবেশেও পিছিয়ে পড়ে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি এসব বিবেচনায়ও পরীক্ষা এগিয়ে আনা প্রয়োজন। আর সেটি ধাপে ধাপে করার পরামর্শ তাদের।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের দেশে উপযুক্ত সময় বর্ষা আসার আগেই, এপ্রিল মাসের দিকে। এসময়ই পরীক্ষা শুরু এবং শেষ করতে হবে।’

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামে পাশের হার ও জিপিএ ফাইভ দু’টোই কমেছে। বিশেষ করে গত বছর চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে ৬ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন।

এসএইচ