র‌্যাগিং-সহিংসতায় অস্থির গণবিশ্ববিদ্যালয়, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

গণবিশ্ববিদ্যালয়
এখন জনপদে , ক্যাম্পাস
শিক্ষা
0

শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো গণবিশ্ববিদ্যালয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাগিং, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, হামলা ও ভয়ভীতির ঘটনায় সেই ক্যাম্পাস এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিতের বদলে উল্টো চাপ সৃষ্টি করছে।

নিরাপদ ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যাপীঠে এখন উদ্বেগ-আতঙ্কের পাশাপাশি বাড়ছে শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসে একের পর এক র‌্যাগিং, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, হামলা ও ভয়ভীতির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ সামনে এলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। একই সময়ে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগও সামনে আসে। এসব ঘটনার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার বদলে উল্টো তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে প্রশাসন।

সম্প্রতি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, উপাচার্য ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ এনে এক নারীসহ ৪ শিক্ষার্থীকে আর্থিক জরিমানার নোটিশ দেয়া হয়। তবে কোন বিধি ভঙ্গের দায়ে এই শাস্তি কিংবা কীভাবে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই নোটিশে।

একজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘চারজন অভিযুক্তের মধ্যে আমি একজন ভুক্তভোগী। যাকে ১০,০০০ টাকা এবং বাকিদেরকে ১২,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। কারণ আমাদের বাকচাতুর্য ঠিক ছিলো না, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকালীন।’

আরও পড়ুন

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গত ৪ মে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কোনো সদুত্তর না পেয়েই প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পর হামলার শিকার হন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর। তার অভিযোগ, ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠরাই তাকে মারধর করে।

ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন অন্তর বলেন, ‘আমি এটার সুষ্ঠু বিচার চাই। এবং ওরা এ ঘটনাটা ঘটিয়েছে মাত্র অন্তুর দেওয়ানের ইন্ধনে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রক্টরের সামনে থেকে নিয়ে মারা হয়। এবং ক্যাম্পাসে একের পর এক মারামারি, হানাহানি আতঙ্কিত তারা।

এদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা জামিনে বের হওয়ার পর থেকে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে দাবি তার। সম্প্রতি হামলারও শিকার হয়েছেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।

ধর্ষণের শিকার হওয়া ছাত্রী বলেন, ‘এ ক্যাম্পাসে আসার পরে আমার এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমিকে আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিরাপত্তা দিতে পারছে না। আমি প্রতিকার চাচ্ছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন। মুঠোফোনে তিনি দায় চাপান ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর।

সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘ট্রাস্টিদের গালিগালাজ করেছে। সে প্রশাসনকে গালিগালাজ করেছে। এটা তো ট্রাস্টি বোর্ড আর সিন্ডিকেট সদস্যরা ও শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত এটা।’

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতেও। হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সেখানে। আর ছাত্র সংসদের এক প্রতিনিধির ওপর হামলার পরও নীরব রয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, কবে নিরাপদ হবে এ ক্যাম্পাস? আর কবে ফিরবে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ?

জেআর