৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ঐতিহ্যের পথে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসের প্রত্যয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাস
শিক্ষা
0

১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে, তা আজ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছরে পা রাখলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এ পথচলায় নানা সংকটে ভারাক্রান্ত মতিহারের এ সবুজ ক্যাম্পাস। তবে প্রশাসন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধান, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে এটিকে শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মতিহারের গগনশিরীষের ছায়ায় দাঁড়িয়ে যে ইতিহাসের গুঞ্জন শোনা যায়, সে ইতিহাস কেবল তারিখ, সময় বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি আবেগ, স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সৃষ্টির ধারায় প্রবাহিত।

১৬১ জন শিক্ষার্থী ও ৬ শিক্ষক নিয়ে যার শুরু, আজ তা ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের স্পন্দন। ইতিহাস বলছে, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানসহ জাতীয় প্রতিটি সংকট-লড়াইয়ে এই ক্যাম্পাসের ভূমিকা অপরিসীম।

বর্তমানে আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্য ও গবেষণার সংকটে ভারাক্রান্ত ক্যাম্পাস। ৭২ বছর পরও এখনো স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা আর পূর্ণাঙ্গ আবাসন না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তুঙ্গে। মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘আমাদের সবার অনেক আশা থাকে যে, আমরা এখান থেকে ভালো কিছু করবো ফিউচারে। তার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই এই ইউনিভার্সিটিকে আমাদের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী হিসেবে চাবো যে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে এসে—বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়—সেই জায়গায় শিক্ষার পরিবেশ, আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা, পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদের খাওয়া-দাওয়ার মান, রাজনৈতিক পরিবেশ, সবকিছু বিশ্বমানের হবে।’

আরও পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয় এখনো পুরোপুরি নারীবান্ধব না। তাই, নারীদের জন্য একটা নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা নারী শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষা ও গবেষণার চাহিদা বাড়ায় আগামী দিনে পড়ালেখা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ আরও উন্নত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘শিক্ষা খাতসহ গবেষণা খাতে আমরা নতুন নতুন বরাদ্দ দিচ্ছি। এই গত সপ্তাহেও আমরা স্পেশাল রিসার্চ অ্যালোকেশন দিলাম এবং সেটা একেবারে নিরপেক্ষ পয়েন্ট অব ভিউ থেকে। এখানে কে প্রশাসনে আছে, কে নাই—তা না; আমরা যাদেরকে পাওয়ার যোগ্য মনে করেছি, তাদেরকেই দেয়া হয়েছে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা এটিকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেয়ার চেষ্টা করছি যাতে করে গবেষণার মান এটা বাড়ে এবং বৃদ্ধি পায় এবং সবাই এই আওতায় আসতে পারে। আমরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে কথা বলেছি এবং আমরা ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশনের কাছে আমরা আবেদন করেছি যাতে করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ গবেষণা প্রকল্পে যে অনুদান, বাজেট—সেটা জানি এবার বৃদ্ধি করা হয়।’

আবাসিক সংকট ও স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের পাশাপাশি বিশ্বমানের শিক্ষার গুণগত মান ক্রমান্বয়ে নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থী বান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এবার গবেষণায় সর্বোচ্চ বাজেট পাওয়ার কথাও জানান উপাচার্য।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের দিকে। কারণ আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যদি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সুবিধা না পায়, ডেফিনেটলি পড়াশোনায় তাদের ব্যাঘাত ঘটবে। দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি আগামী দিন বছরগুলোতে, দিনগুলোতে—তাহলে আমরা শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে পারবো।’

ঐতিহ্যের গর্ব আর বর্তমানের সংকট এই দুইয়ের দোলাচলে দাঁড়িয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ৭৩ বছরের এই ক্যাম্পাস এখন নতুন করে জেগে ওঠার অপেক্ষায়।

এফএস