সিলেটে হামের প্রভাব: ২৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২২ জন

হাসপাতালে ভর্তি শিশু পাশে স্বজনেরা
এখন জনপদে
স্বাস্থ্য
0

সিলেটজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ সংকটে রূপ নিয়েছে। গেল সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৭ শিশুর। এ নিয়ে ২৭ জনের প্রাণহানি। শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি বেশি থাকায় চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ১২২ জন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউতে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিঃশব্দ আর্তনাদ যেন বাতাস ভারী করে তুলেছে। অক্সিজেনের জন্য লড়াই করা ছোট ছোট দেহগুলো জানান দিচ্ছে দেশের নতুন সংকটের। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা আছে ঠিকই কিন্তু রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। প্রতিটি মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর লড়াই, আর সেই লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অসহায় পরিবারগুলো।

শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পা রাখতেই চোখে পড়ে ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই অবস্থা। একটি বেডে দুজন, কখনো তিনজন শিশুকে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে । পাশেই বসে থাকা মা-বাবা বা স্বজনের করুন দৃষ্টিই বলে দেয় চিকিৎসার বর্তমান অবস্থাটা কেমন। সন্তানের চিকিৎসা করতে এসেই অনেকেই জানান তাদের ভোগান্তির কথা ।

রোগীর স্বজনরা জানান, পরিবেশটা বেশি ভালো না। যে ময়লা এগুলো ওয়ার্ড বয় বা বিছানা-চাদর এগুলো পরিষ্কার করে না তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারণার চেয়ে রোগী বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সংকটে পড়েছেন তারা। তারপরও সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি রোগীর চাপ সামলাতে নতুন করে করা হচ্ছে হাম রোগীর আইসোলেশন ওয়ার্ড। যেখানে বাড়ানো হচ্ছে বেডসহ পিআইসিউর সংখ্যাও।

সিওমেকের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উমর ফারুক বলেন, ওসমানীতে ১০ বেডের একটা আইসিইউ ক্যাপাসিটি এটা গত মাসের এপ্রিলের ২ তারিখ থেকে চালু। তারপর আমরা দেখলাম যে ওসমানীর ১০ বেডের আইসিইউ কাভার হচ্ছে না। তখন আমরা শামসুদ্দিনে আবার ৭ বেডের একটা আইসিইউ—এগুলা কিন্তু সব ইন্টারনাল ক্যাপাসিটিতে ম্যানেজ করে করা হয়।

আর বর্তমানে সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকাদানকেই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরে আলম শামীম বলেন, ‘আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে যে টিকা যাতে দেওয়া হচ্ছে কোন বাচ্চা বাদ পড়ছে কি না। এই টিকাটাই মেইনলি এইটা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করার জন্য একমাত্র উপায়।’

সিলেটের হাসপাতালগুলো এখন শুধু চিকিৎসার কেন্দ্র নয়-এগুলো যেন মানুষের কষ্ট, আশা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের ।

ইএ