আজ (শনিবার, ১১ এপ্রিল) রাজ্যটির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়িতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারণায় উপস্থিত থেকে এসব মন্তব্য করেন মমতা ব্যানার্জি।
মমতা বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ১২ রাজ্যে এই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা। সম্প্রতি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং তাতে ৯০ লাখের বেশি ভুয়া ভোটারের নাম বাদ গেছে।’
যদিও এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে নিশানা করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ, বাদ যাওয়া ৯০ লাখ নামের মধ্যে ৬০ লাখ হিন্দু এবং ৩০ লাখ মুসলমান রয়েছেন।
বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত নিয়ে বিজেপি সরকার নির্বাচনকালে দেশের সংসদে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ মমতার। তার অভিমত, ‘কত বড় অন্যায় দেখুন! এরা নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারল না। কারণ ওরা বাংলাকে টুকরো টুকরো করবে। এর নাম করে এনআরসি করবে।’
বাংলায় ক্ষমতায় আসলে সকলের জন্য এক আইন (ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি) চালু করার যে ঘোষণা বিজেপি দিয়েছে তার বিরোধিতা করে মমতা বলেন, ‘এর অর্থ সাধারণ মানুষের ধর্মচর্চা করার বা সংস্কৃতি পালন করার কোনো নিজস্ব অধিকার থাকবে না। এতে মানুষের ধর্ম, শিক্ষা, ঐতিহ্য সমস্ত কিছু কেড়ে নেয়া হবে।’
এমনকি এ নির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে তিনি যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন তারও একটা চক্রান্ত চালানো হয়েছিল বলে এদিন অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘মিথ্যে হলফনামা করে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করার চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারি। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত পারে নি।’
তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে দলনেত্রী বলেন, ‘কে প্রার্থী, ভুলে যান। সরকারটা আমিই গড়বো। ২৯৪টা কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী। এটা মনে রাখবেন।’
এদিকে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরে নির্বাচনে প্রচারণা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের স্লোগান দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল কিন্তু এখন তারা এরাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে অনুপ্রবেশকারীদের সরকার বানাতে চায়। কিন্তু আমরা তৃণমূলকে অনুপ্রবেশকারীদের সরকার বানাতে দেব না। এ কারণে এ নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এ নির্বাচন বাংলার নিজের পরিচয় বাঁচিয়ে রাখার।’
আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যটিতে ক্ষমতায় আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি যে সংকল্প নিয়েছে সেটা কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, রাজ্য থেকে তৃণমূলের অরাজকতা এবং সিন্ডিকেট রাজত্ব দূর করবে। বাংলার মেয়েরা আর ভয় পাবে না, অসুরক্ষিত থাকবে না, সম্মান এবং নিজের মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাবে।’





