অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে স্থানীয় পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল (সোমবার, ১৮ মে) রাত ৮টার দিকে রেমন্ড অ্যাভিনিউর একটি বাড়ি থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারী এবং ১২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ির পৃথক তিনটি কক্ষে মরদেহ পাওয়া যায় এবং সবার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঘটনার পর ওই ব্যক্তিই জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফোনে সুমন আহমেদ বলেন, ‘আমি ছুরি দিয়ে আমার সন্তানদের এবং স্ত্রীকে হত্যা করেছি।’
পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে তিনটি পারিবারিক সহিংসতাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তিনি জামিন আবেদন করেননি।
আরও পড়ুন
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ, যেখানে তিনজনকে আলাদা স্থানে পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই সন্তানকে দেখাশোনা করতেন আর মা চাকরি করতেন। দুই শিশুরই গুরুতর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা ছিল। পুলিশ দাবি করছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
আদালত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি গত জানুয়ারিতে পার্থে ঘটে যাওয়া এমন একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ ঘটনার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন। জানা গেছে, পার্থে অটিস্টিক সন্তানদের লালন-পালন করতে গিয়ে ‘হিমশিম খেয়ে’ সন্তানদের হত্যা করে নিজেরাও আত্মহত্যা করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই ফোন করে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে খুবই নিরিবিলি জীবনযাপন করত এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের খুব সীমিত যোগাযোগ ছিল। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং পরিবারটি প্রায় এক দশক আগে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নেয়। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত বা অভিযুক্তদের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ করেনি।
পারিবারিক তথ্যের বরাতেও অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, দম্পতিটি প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন গ্রহণ করেছিলেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আদালত। ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





