সান ডিয়েগো মসজিদে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ; জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দা

মসজিদ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ
প্রবাস
0

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরের ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ মসজিদে তিন মুসল্লিকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী দুই বন্দুকধারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি আইন প্রয়োগকারী সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলাকারী ওই দুই তরুণ হলো ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভেলাস্কেজ। রক্তক্ষয়ী এ হামলার পর মসজিদ থেকে কয়েক ব্লক দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনেই পুলিশের তাড়া খেয়ে নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে অন্যতম জঘন্য এ বর্ণবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। মঙ্গলবার (১৯ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের জন্য প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (নোট টু করেসপনডেন্টস) মহাসচিবের সম্পূর্ণ বিবৃতিটি তুলে ধরেন তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

জাতিসংঘ মহাসচিব তার বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব গতকাল ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন, যে ঘটনায় তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মহাসচিব পুনর্ব্যক্ত করছেন যে, উপাসনালয়গুলোতে হামলা চালানো বিশেষভাবে জঘন্য একটি কাজ এবং তিনি সব ধরনের ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দিচ্ছেন। মহাসচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি তার আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছেন এবং এ হামলার ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।’

তদন্তকারীদের দেয়া তথ্যে কেইন ক্লার্ক ও ক্যালেব ভেলাস্কেজের বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হামলাকারী কেইন ক্লার্ক স্থানীয় ম্যাডিসন হাই স্কুলের কুস্তি দলের সদস্য ছিল এবং ২০২১ সাল থেকে সে অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি পড়াশোনা করছিল। ক্লার্কের ৭৮ বছর বয়সী দাদা ডেভিড ক্লার্ক নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘যা ঘটেছে তার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। এটি আমাদের পুরো পরিবারের জন্য একটি বিশাল ধাক্কা।’

সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার আনুমানিক দুই ঘণ্টা আগে কেইন ক্লার্কের মা পুলিশকে ফোন করে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়েছিলেন। ওই মা পুলিশকে জানান, তার বাড়ি থেকে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র এবং তার নিজের গাড়িটি গায়েব রয়েছে। সব তথ্য মিলিয়ে মায়ের ধারণা হয়েছিল যে তার ছেলে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে।

কিন্তু পুলিশ যখন তদন্তে জানতে পারে যে ছেলেটি একা নয়, বরং ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক পরে আরেকজন বন্ধুকে নিয়ে বের হয়েছে তখনই তাকে খোঁজার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কারণ এই বিষয়গুলো কোনো আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির স্বাভাবিক আচরণের সাথে মেলে না। কিন্তু পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ট্র্যাকিং করার সময়ই তারা মসজিদে এ ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়ে বসে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, হামলাকারীরা নিয়মিত চরমপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিতেন। ফলে পুরো ঘটনাটি ‘ঘৃণামূলক অপরাধ’ (হেট ক্রাইম) হিসেবেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে পুলিশ ও এফবিআই।

এএইচ