হাদি হত্যা মামলায় এনআইএ তদন্তের সময়সীমা বাড়ালো দিল্লির আদালত

শরিফ ওসমান হাদি
আইন ও আদালত
প্রবাস
0

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (এনআইএ) অতিরিক্ত ৪৫ দিন সময় দিয়েছে দিল্লির বিশেষ আদালত।

‘বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন’ বা ইউএপিএর (ইউএপিএ) বিধান অনুযায়ী আদালত তদন্তের সময়সীমা সাধারণ ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ দিন করেছে; এর ফলে তদন্তকারীরা তদন্ত কাজ শেষ করার জন্য অতিরিক্ত ৪৫ দিন সময় পেলেন।

ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে হাদি হত্যা মামলায় তিন অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, আলমগীর হোসেন এবং ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এরপর সেই মামলায় যুক্ত হয় এনআইএ। পরবর্তীতে তাদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালতে তোলা হয়েছিল।

শুক্রবার তাদের তিনজনকে দিল্লির এনআইএ বিশেষ আদালতে তোলা হলে এ তিন অভিযুক্তকে তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জুডিশিয়াল কাস্টডি) নির্দেশ দেয় আদালত। অবকাশকালীন বিচারক মিনু কৌশিক তিন অভিযুক্তদের এ নির্দেশ দেয়।

এর আগে গত ১৬ জুন এনআইএয়ের বক্তব্য শোনার পর অবকাশকালীন বিচারক সৌরভ প্রতাপ সিং এ মামলায় এনআইএ তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদন করেন। আদালতে তদন্তকারী সংস্থার তরফে যুক্তি দেয়া হয় যে, সম্প্রতি নতুন কিছু প্রমাণ ও নথিপত্র পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চূড়ান্ত করার আগে সেগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এনআইএয়ের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের কাছ থেকে পাওয়া নথিপত্র বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আদালতকে জানিয়েছেন যে, প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা এবং তদন্তের পরবর্তী সূত্রগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন।

আদালতে এনআইএ-র এ আবেদনটি পেশ করেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী; তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যতীন, অমিত রোহিলা এবং পাবলিক প্রসিকিউটর কুশদীপ গৌর।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

ওই ঘটনার পরেই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা। এরপর ৭ মার্চ রাতে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন- উভয়কেই বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমাকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। ফিলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাদি হত্যার প্রধান দুই চক্রী বাংলাদেশি নাগরিক ফয়সাল এবং আলমগীর হোসেনকে অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করেছিল।

এএইচ