টেলিকম খাতে সরকারি করের চাপের প্রভাব গ্রাহকসেবায়!

ফোন হাতে গ্রাহক
তথ্য-প্রযুক্তি , দেশে এখন
বিশেষ প্রতিবেদন
0

আয়ের প্রতি ১০০ টাকায় ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য ফি বাবদ প্রায় ৫৬ টাকা সরকারের কোষাগারে দিতে হয় মোবাইল ফোন অপারেটরদের। অভিযোগ আছে উচ্চহারে কর আদায়ের কারণে সেবার মান বাড়াতে মনোযোগী নয় অপারেটরগুলো। এতে গ্রাহকরা যেমন পাচ্ছেন না মানসম্পন্ন সেবা তেমনি অতিরিক্ত দামে কল ও ডাটা ব্যবহার করতে হচ্ছে। বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে করপোরেট করের হার কমানোর দাবি অপারেটরগুলোর। এছাড়া টেলিকম খাতে সরকারি নীতি বছর বছর পরিবর্তন না করে তা দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারণের আহ্বান বিশ্লেষকদের।

দেশের চারটি অপারেটরের প্রায় ১৯ কোটি সিম ব্যবহারকারী, এসব গ্রাহকদের ভয়েস কল, ইন্টারনেট সেবা থেকে শুরু করে নানা সেবা দেয় অপারেটরগুলো। বিনিময়ে সরকারকে বছরে রাজস্ব দিতে হয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে অপারেটরগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে স্পেকট্রাম খরচে। এছাড়াও ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, কর, সারচার্জ, সিম ট্যাক্স, লাইসেন্স ফিতে ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানগুলো। অপারেটররা সরাসরি কর বাবদ ৩৯ টাকা ব্যয় করলেও সব মিলিয়ে এর খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা।

মাত্র ৪৪ টাকায় কোম্পানির অন্যান্য খরচ চালানো কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে অপারেটররা বলছে, সিম ট্যাক্স সম্পূর্ণ বাতিল, সারচার্জ কমানো মুঠোফোনের দাম কমিয়ে ব্যবহারকারী বাড়ানোর দাবি তাদের।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘সরকারও দেখছে যে, যেখানে হাত দেয় সেখানেই ধরেন ১,০০০ কোটি টাকা, ১,৫০০ কোটি টাকার একটা ব্যাপার থাকে এবং সেটা ব্যালেন্সটা কোত্থেকে আসবে। পেনিট্রেশন বাড়লে আলটিমেটলি কিন্তু সরকারের টাকাটা চলে আসবে সরকারের কাছে। কারণ, পেনিট্রেশন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভিসের যে ভ্যাট হবে, ট্যাক্স হবে, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি হবে, সেখানে কিন্তু সরকার টাকাটা রিটার্ন পাবে।’

আরও পড়ুন

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘সিম ট্যাক্স যেটা আছে, ৩০০ টাকা। আমার যেকোনো সিম যদি কেউ কিনে, ৩০০ টাকা দিতে হয়। এটা কিন্তু ওয়ার্ল্ডে খুব কম জায়গায় এরকম সিম ট্যাক্স আছে। আগামী বাজেটে কিন্তু ওরা একটা বাজেট করে রাখার চেষ্টা করছে স্পেক্ট্রাম কষ্ট থেকে কত আসবে, একটা মোবাইল অপারেটর থেকে। এটাও কিন্তু বাংলাদেশে অনেক বেশি কষ্ট। আমি যদি বলি, ওয়ার্ল্ডের মধ্যে ওয়ান অব দি মোস্ট এক্সপেনসিভ।’

দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় প্রায় দেড় কোটি গ্রাহক আছে। ব্রডব্যান্ড সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে সব মিলে ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দেয়। আইএসপিএবি বলছে, এ খাতকে করপোরেট করের বাইরে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি সেবাখাত বিবেচনায় কর কমাতে হবে সরকারকে। এতে দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য আরো কমানো সম্ভব।

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ফাইবার অপটিকের উপর যে ভ্যাট-ট্যাক্স আছে, ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সেটা কমিয়ে নিয়ে আসা উচিত এবং লাস্ট মাইলের যে ইকুইপমেন্টটা আছে, ওএনইউ আছে কিংবা আমরা মোডেমের মতন করে বলতে পারি বুঝার সুবিধার্থে, সেখানে ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়ে নিয়ে আসা উচিত এবং সর্বোপরি হচ্ছে আমাদের সেক্টরকে আইটি এনাবল্ড সার্ভিস হিসেবে ডিক্লারেশনটা আমরা সরকারের কাছে চাচ্ছি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য দেশের করের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে বাংলাদেশেও। টেলিকম খাতে সরকারের নীতি প্রতিবছর না করে তা দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারণের আহ্বান জানান এ বিশেষজ্ঞ।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নুরুল কবির বলেন, ‘সরকার যেই ট্যাক্স স্ট্রাকচার তৈরি করছে, এটা মাত্র একটা বছরের জন্য তারা করে। আমরা বলছি, দীর্ঘমেয়াদি করেন। যাতে এটার প্রেডিক্টিবিলিটি থাকে। যাতে একটা ইনভেস্টর অন্য একটা ইকোনমির সঙ্গে কম্পেয়ার করে বাংলাদেশের ট্যাক্স পলিসিকে ফেভারেবল মনে করলেই তারা ইনভেস্ট করবে। আদারওয়াইজ তো করবে না। তো সেই দিকগুলো আমাদের বিবেচনায় আনা উচিত।’

যদিও সরকারের তরফ থেকে এই খাতে কর কমানোর বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

জেআর