ধ্রুব রাঠীর বিতর্কিত ভিডিও: গুগলের কাছে তথ্য চাইলো দিল্লি পুলিশ

ধ্রুব রাঠী
বিদেশে এখন
তথ্য-প্রযুক্তি
0

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর একটি বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া মামলায় গুগলের কাছে ইলেকট্রনিক তথ্য ও অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে বলে দিল্লি আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। সনাতন ধর্ম ও হিন্দু দেবতাদের নিয়ে ওই ভিডিওতে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে এ তদন্ত চলছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

বৃহস্পতিবার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) নিহারিকা কুমার শর্মার আদালতে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট (তদন্তের হালহকিকত) জমা দেয় দিল্লি পুলিশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভিডিওটিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাধিক পূজনীয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অবমাননাকর ও আপত্তিকর বক্তব্য রয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

গত ৯ জুন আদালত দিল্লি পুলিশকে অ্যাকশন স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। গত ২২ মার্চ অমিতা সচদেবা নামে এক নারী ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে ওই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার অভিযোগ, ধ্রুব রাঠী নিজের ভিডিওতে হিন্দু শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা করেছেন, সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চালিয়েছেন।

অভিযোগকারী আরও জানান, ওই ভিডিওতে হিন্দু শাস্ত্রের কিছু অংশ আংশিক ও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভগবান রাম ও সীতা দেবীসহ বেশ কয়েকজন পূজনীয় ব্যক্তিত্ব আমিষ খাবার ও মদ গ্রহণ করতেন বলে অমূলক ও বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়েছে সেখানে।

অভিযোগ জমা পড়ার পর ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ এবং উল্লিখিত ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে গুগলের মালিকানাধীন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবকে নোটিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তবে কোন ভিডিও এবং অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে এ তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে পুলিশের কাছ থেকে কিছু ব্যাখ্যা দাবি করে গুগল ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, গুগলের চাওয়া সমস্ত ব্যাখ্যা তৈরি করা হয়েছে এবং দ্রুতই নতুন করে তাদের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন পাঠানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত জবাব এলেই তদন্তের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। গুগলের কাছ থেকে ই-মেইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেছে।

রিপোর্টে পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে যে, অভিযোগকারী অমিতা সচদেবা একই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টেও একটি আবেদন করেছিলেন। গত ৩ জুলাই হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের ‘গ্রিভেন্স অ্যাপেলেট কমিটি’কে (জিএসি) এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্দেশ দেয়।

পরবর্তীতে ১৫ জুলাই জিএসি জানায়, ভিডিওটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—তাই এটি সরিয়ে নেয়া উচিত। এর পর গত ১১ আগস্ট হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ হিসেবে জানায় যে, জিএসির নির্দেশের পর গুগল ও ইউটিউব ইতোমধ্যেই ভারতে ভিডিওটির প্রদর্শন ও প্রবেশাধিকার ব্লক করে দিয়েছে। পুলিশ সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করার জন্য আদালতের কাছে অতিরিক্ত কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছে।

এএইচ