প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত: আলোচনায় যুগান্তকারী ১০ উদ্ভাবন

সম্ভাবনাময় ১০টি উদ্ধাবন
প্রযুক্তি সংবাদ
তথ্য-প্রযুক্তি
0

প্রযুক্তি জগতে পরিবর্তনের গতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেকটাই বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, জীব বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবন মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে নিয়ে যাচ্ছে নতুন মোড়ে। এ বাস্তবতায় কোন প্রযুক্তিগুলো সামনের বছরগুলোতে বড় মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়ে এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ প্রতিবছরের মতো রিভিউ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অবলম্বনে ১০টি প্রযুক্তির তালিকা ও বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি: লিথিয়ামের বিকল্প হিসেবে সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। লবণের মতো সহজলভ্য উপাদানে তৈরি হওয়ায় এটি তুলনামূলক সস্তা ও নিরাপদ। বিদ্যুৎ গ্রিড সংরক্ষণ থেকে শুরু করে কম দামের বৈদ্যুতিক যানবাহনে এ ব্যাটারির ব্যবহার বড় ভূমিকা রাখতে পারে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

২. জেনারেটিভ কোডিং এআই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং টুল সফটওয়্যার তৈরির ধরন বদলে দিয়েছে। কম সময় ও সল্প দক্ষতাতেই এখন অনেক জটিল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যদিও টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে ভুল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক এনার্জি: আধুনিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো কম জায়গায়, নতুন ধরনের জ্বালানি ও কুলিং পদ্ধতি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এতে দিন দিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও বাড়ছে।

৪. এআই কম্প্যানিয়ন: এআই নির্ভর চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল কম্প্যানিয়ন বা সঙ্গীর সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ার সঙ্গে সম্পর্ক বড় হচ্ছে। তবে এতে মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক আচরণ ও নৈতিকতার প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যা আধুনিক রাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় ফেলেছে।

৫. বেস-এডিটেড চিকিৎসা: জিনের নির্দিষ্ট অংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যক্তিভিত্তিক পারসোনালাইজড চিকিৎসা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এটি শিশুদের বিরল রোগ চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:

৬. জিন রেজারেকশন গবেষণা: বিলুপ্ত প্রাণীর জিন তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ থেকে নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবন এবং বিপন্ন প্রজাতি প্রাণীকে রক্ষার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে জানিয়েছেন জেনেটিক্যাল বিজ্ঞানীরা।

৭. মেকানিস্টিক ইন্টারপ্রেটেবিলিটি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ভেতরে কীভাবে সিদ্ধান্ত তৈরি হয়, তা বোঝার গবেষণাও অনেক দূর এগিয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে আমরা এআইয়ের সীমাবদ্ধতা ও আসন্ন যেকোনো ঝুঁকি চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি গবেষকরা। 

৮. বাণিজ্যিক স্পেস স্টেশন: এক সময় মহাকাশ ভ্রমন সাইন্স ফিকশন হলেও আজ বাণিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমন বা পর্যটন আর কল্পনা নয়। বাণিজ্যিক স্পেস স্টেশন গবেষণা ও বেসরকারি ভ্রমণের এক নতুন বাণিজ্যের দরজা উন্নমোচন করেছে।  

৯. এমব্রিও স্কোরিং প্রযুক্তি: ভ্রূণের জিনগত রোগে শনাক্তের জন্য ফার্টিলিটি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো ভ্রূণ স্ক্রিনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তবে এখন নতুন কিছু স্টার্টআপ একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভ্রূণের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য—এমনকি বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত—পূর্বাভাস দেয়ার দাবি তুলছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

১০. হাইপারস্কেল এআই ডাটা সেন্টার: এআইয়ের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে বিশ্বজুড়ে বিশাল ডাটা সেন্টার গড়ে উঠছে, যা বিপুল বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রযুক্তি একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে তেমনি নৈতিকতা, পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। এটি ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এ প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহারের ধরন ও নীতিনির্ধারণী নীতিমালার ওপর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এএম