ট্রাম্প-মাচাদো বৈঠক ১৫ জানুয়ারি

মাচাদো ও ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উল্লেখ করে নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রকৃত নেতা হিসেবে আবারও দাবি করলেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। হোয়াইট হাউজের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করছে ভেনেজুয়েলা। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তি রাজনৈতিক বন্দিদের দিচ্ছে তারা। এদিকে ভ্যাটিকানে পোপ লিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশটির বিরোধী নেতা মাচাদো। আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভেনেজুয়েলার জনজীবন, খুলতে শুরু করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গতকাল (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি শেয়ার করে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উইকিপিডিয়ার পেইজের মতো দেখতে ওই ছবিতে ট্রাম্পের পরিচয়ে লেখা ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার পর ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব তার দখলে বলে একাধিকবার দাবিও করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন কর্মকাণ্ডের পর, ভেনেজুয়েলাকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আবারও ঘোষণা দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এ সময় তিনি নিজেকে দেশটির প্রকৃত নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। তা আবারও নিশ্চিত করছি। ভেনেজুয়েলাকে শাসন করার জন্য একটি সরকার রয়েছে। যেখানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রে জিম্মি আছেন প্রেসিডেন্ট। সংগঠিত এবং জনগণের রায় নিয়ে এ দেশ শাসন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।’

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার নেতাদের সহযোগিতায় সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ওয়াশিংটনের।

আরও পড়ুন:

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন ল্যাভিট বলেন, ‘এ মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক আচরণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে জানানোর পর তারা তা শুরু করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার দুর্দান্ত একটি স্তর দেখা যাচ্ছে এবং সেটা অব্যাহত থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। নির্বিচারে আটক ৮ শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে একদিনে মুক্তি দেয়া হয় ১১৬ জনকে। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিরোধী দলের হাই-প্রোফাইল নেতাও আছেন।

এদিকে ভ্যাটিকানে পোপ লিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা শান্তিতে নোবেল জয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো। তবে তাদের মধ্যে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা প্রকাশ করেনি ভ্যাটিকান। আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন মাচাদো। ভেনেজুয়েলার শাসনভার নিয়ে কথা হতে পারে তাদের মধ্যে।

নিকোলাস মাদুরোকে অপহরন ও মার্কিন হামলার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভেনেজুয়েলার জনজীবন, খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরতে শুরু করলেও উপস্থিতি খুবই কম।

গেল ৩ জানুয়ারি মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রধান লা গুয়াইরা বন্দর। নষ্ট হয়ে গেছে গুদামে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সামগ্রী। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক একটি সাংস্কৃতিক ভবনও ধ্বংস হয়ে গেছে।

এসএইচ