মধ্য জর্জিয়ার একটি কাঠের কেবিনের বাইরে, স্থানীয় বাসিন্দা নাতিয়া গেডেনিদয বরফে ঢাকা মাটির ওপর এক মিটারেরও কম উচ্চতার একটি সাজানো গাছ বসিয়েছেন। একটি দেশলাই জ্বালিয়ে মুহূর্তেই সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
নাতিয়া গেডেনিদয বলেন, ‘এটিই জর্জিয়ার ক্রিসমাস ট্রি, যার মাধ্যমে আমরা নতুন বছর উদযাপন করেছি। এখন নতুন বছরের উৎসব শেষ, তাই আমরা পুরোনো সবকিছু পুড়িয়ে ফেলে দিই এবং নতুন আশা ও নতুন ভালোবাসা নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করি।’
শুকনো আখরোট বা হ্যাজেলনাট গাছের ডাল ছেঁটে তৈরি করা এ গাছকে বলা হয় চিচিলাকি। এটি চতুর্থ শতাব্দীর সেন্ট বাসিলের দাড়ির মতো করে বানানো হয়। সেন্ট বাসিল দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি যত্নশীলতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
এই চিচিলাকি পশ্চিম জর্জিয়ায় সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলেও, সারা দেশেই এর প্রচলন রয়েছে। জর্জিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের বড়দিন ধরা হয় ৭ জানুয়ারি। এইদিন বাড়িতে বাড়িতে চিচিলাকি সাজানো হয়। এরপর বছর শেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যা গত বছরের দুঃখ-কষ্ট ঝেড়ে ফেলার প্রতীক।
আরও পড়ুন:
আরেক গ্রামবাসী মারিয়াম গুলোরদাভা তার কর্মশালায় বসে, চারপাশে অসংখ্য চিচিলাকি রেখে, নিপুণ হাতে ছুরি চালিয়ে গাছের গায়ে নতুন নতুন পাকানো নকশা তৈরি করছেন। এতে গাছের গোড়ার ঝুঁটি ধরা সাদা দাড়িটি আরও ঘন হয়ে উঠছে।
মারিয়াম গুলোরদাভা বলেন, ‘এটি হ্যাজেলনাট ও আখরোট দিয়ে তৈরি। হ্যাজেলনাট, যেমনটা আপনারা জানেন, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রতীক। হ্যাজেলনাট ও আখরোট থেকেই তৈরি হয় অত্যন্ত সুন্দর, তুষার-সাদা চিচিলাকি।’
তিনি আরও জানান, পুরোনো চিচিলাকি পুড়িয়ে ফেলার পর নতুন একটি চিচিলাকি ঘরে আনা হয় এবং সেটি পুরো বছর ঘরে রাখা হয়।
তিনি বলেন, ‘নতুন চিচিলাকি বানানোর সময় পুরোনোটি বাগানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলি, আর নতুনটি পুরো এক বছর ঘরে রাখা হয়। এভাবেই নতুন চিচিলাকি পুরোনোটির জায়গা নেয়।’
চিচিলাকি শুধু একটি সাজানো গাছ নয়, বরং এটি জর্জিয়ান সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এই রীতি মানুষকে নতুন আশা ও ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে, আর তাই আজও জর্জিয়ার নতুন বছর চিচিলাকি ছাড়া অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়।





