সৌদিতে স্বর্ণের বিশাল খনি আবিষ্কার, মজুতের পরিমাণ ছাড়ালো ২ লাখ কেজি!

সৌদি আরবে স্বর্ণের খনি আবিষ্কার
বিদেশে এখন
0

খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারে নতুন রেকর্ড গড়লো সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ (Ma'aden) চারটি ভিন্ন স্থানে নতুন করে প্রায় ৭৮ লাখ আউন্স বা ২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের মজুত (Gold Reserves) পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই আবিষ্কার সৌদি আরবের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একনজরে সৌদিতে স্বর্ণের মজুতের তথ্য

প্রকল্পের নাম (Project Name)নতুন মজুতের পরিমাণ (New Reserves)মোট আউন্স (Total Ounces)
মানসুরা মাসারাহ৩০ লাখ আউন্স১ কোটি ৪ লাখ আউন্স
ওয়াদি আল জাও৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স(নতুন আবিষ্কার)
উরুক ও উম্ম আস সালাম১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স
সর্বমোট নিট প্রবৃদ্ধি৭৮ লাখ আউন্স২ লাখ ২১ হাজার কেজি+

আরও পড়ুন:

যেসব এলাকায় মিললো স্বর্ণের খনি (Areas of Discovery)

মাদেন জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পিত খনন কার্যক্রমের (Drilling Activities) মাধ্যমে মূলত চারটি প্রধান প্রকল্পে এই বিশাল মজুতের সন্ধান মিলেছে:

১. মানসুরা মাসারাহ (Mansourah Massarah): এটি বর্তমানে মাদেনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যেখানে গত বছরের তুলনায় মজুত বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স।

২. ওয়াদি আল জাও (Wadi Al-Jao): এই নতুন আবিষ্কৃত অঞ্চলে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুত পাওয়া গেছে।

৩. উরুক ২০/২১ (Uruq 20/21) ও উম্ম আস সালাম (Umm Ad Salam): এই দুটি প্রকল্পে আরও ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স স্বর্ণের সন্ধান মিলেছে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ার লক্ষ্য (Vision for Global Gold Industry)

মাদেনের সিইও বব উইল্ট (Bob Wilt) জানান, এই সাফল্য সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ (Saudi Vision 2030) এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থান দখলের কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, “আমাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’ (Arabian Shield) অঞ্চলে স্বর্ণের পাশাপাশি তামা ও নিকেলের মতো খনিজ সম্পদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

বর্তমানে ‘মানসুরা মাসারাহ’ প্রকল্পে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুত (Ore Reserve) থাকার ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি টন আকরিক থেকে প্রায় ২.৮ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যাবে। এই বিশাল প্রাপ্তি ভবিষ্যতে সৌদি আরবের নগদ অর্থ প্রবাহ (Cash Flow) এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে এর প্রভাব

সৌদি আরবে ২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণের নতুন মজুত নিশ্চিত হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি বিশ্ব স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। নিচে এর প্রধান দিকগুলো আলোচনা করা হলো:

১. বৈশ্বিক সরবরাহে স্থিতিশীলতা (Global Supply Stability)

বর্তমানে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নির্ভর করে চাহিদা এবং সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাদেন-এর এই আবিষ্কার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। দীর্ঘমেয়াদে যখন এই স্বর্ণ উত্তোলন শুরু হবে, তখন বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামের আকস্মিক বৃদ্ধি বা ভলাটিলিটি (Volatility) কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

২. উৎপাদন খরচ ও স্বর্ণের দাম (Production Cost and Pricing)

মাদেন জানিয়েছে, মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে প্রতি টন আকরিকে ২.৮ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে। এটি খনি শিল্পের হিসেবে বেশ উন্নত মান। উৎপাদন খরচ কম হলে এবং উত্তোলন প্রক্রিয়া দ্রুত হলে সৌদি আরব তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক দামে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ সরবরাহ করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী চাপ (Downward Pressure) তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন:

৩. ডলারের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণ (Gold as an Alternative to Dollar)

সৌদি আরব বর্তমানে তাদের অর্থনীতিকে তেল-নির্ভরতা থেকে সরিয়ে বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। নিজেদের স্বর্ণের মজুত বাড়লে দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণের ব্যবহার বাড়াতে পারে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বর্ণের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণকে একটি নিরাপদ সম্পদ (Safe Haven) হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

৪. বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি (Investors' Sentiment)

স্বর্ণের বড় কোনো খনি আবিষ্কৃত হলে বড় বড় বিনিয়োগকারী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। সৌদি আরবের মতো স্থিতিশীল দেশে বড় মজুতের খবর বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে যে ভবিষ্যতে স্বর্ণের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি স্বর্ণের দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি (Price Spike) রোধ করতে সহায়তা করে।

তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববাজারে দাম হু হু করে কমে না গেলেও, সৌদি আরবের এই আবিষ্কার ২০২৬-২৭ সালের স্বর্ণের বাজারকে অনেক বেশি স্থিতিশীল করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে স্বর্ণের ব্যবসায়িক আধিপত্য আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:

সৌদি আরবের স্বর্ণের খনি ও মজুতের তুলনামূলক চিত্র

প্রকল্পের নাম (Project Name)নতুন মজুতের পরিমাণ (New Reserves)আকরিকের মান (Ore Grade)বর্তমান অবস্থা (Status)
মানসুরা মাসারাহ (Mansourah Massarah)৩০ লাখ আউন্স২.৮ গ্রাম/টনদেশের বৃহত্তম ও সক্রিয় প্রকল্প
ওয়াদি আল জাও (Wadi Al-Jao)৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্সউচ্চ মান (High Grade)সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার
উরুক ২০/২১ (Uruq 20/21)১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স (যুগ্মভাবে)মধ্যম মানসম্প্রসারণাধীন এলাকা
উম্ম আস সালাম (Umm Ad Salam)১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স (যুগ্মভাবে)মধ্যম মানঅনুসন্ধান ও ড্রিলিং চলমান
মাহদ আদ দাহাব (Mahd Ad Dahab)নতুন স্তর আবিষ্কৃতঐতিহাসিক খনিখনির আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির কাজ চলছে

আরও পড়ুন:

এসআর