নিয়ন আলোর নিচে ড্যান্স ফ্লোরে বাজনার তালে তালে নাচছে একদল তরুণ-তরুণী। তবে এ নাচের সঙ্গে নেই কোনো অ্যালকোহল বা মাদক। বরং তাদের হাতে আছে কফি বা আইসড টি। পাকিস্তানে করাচির একটি ইনডোর স্পোর্টস ক্লাবে দৃশ্য এটি। ডিজে পার্টির ফাঁকে চলেছে টেনিস ও স্কোয়াশ খেলা।
এসব আয়োজন চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। করাচির জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম এক নতুন ধরণের নাইটলাইফের দিকে ঝুঁকছে। পরিমিত সামাজিক প্রথাকে বেছে নিচ্ছেন পাকিস্তানের জেন-জিরা। এসব পার্টিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে তরুণদের উপস্থিতি। পিছিয়ে নেই মেয়েরাও।
মুসলিমদের জন্য অ্যালকোহল বা মদ্যপান নিষিদ্ধ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে মাদকহীন আড্ডার নতুন ধারা তরুণ প্রজন্মের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। আগে প্রায়ই অ্যালকোহল ও মাদকসহ আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি হত। তবে সেগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এখন স্পোর্টস ক্লাব, কফি শপ, এমনকি আর্ট গ্যালারিতেও স্থানীয় সরকারের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে আয়োজন করা হচ্ছে মাদকহীন পার্টি।
পার্টিতে অংশ নেয়া এক যুবক জানান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা দেখা করার জায়গা খুব একটা নেই। তাই করাচির এসব পার্টিতে বন্ধু-বান্ধব আনেন তারা। তাই আগের পার্টিগুলোর প্রতি তরুণদের আগ্রহ কমেছে।
এক তরুণী জানান, জেন-জিরা মদ্যপান ও মাদক ছাড়াই এসব পার্টি উপভোগ করছে। এ ধরনের আয়োজনে মানুষজনও আরও বেশি সচেতন হবে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। আয়োজক সংস্থার জানিয়েছে, এসব পার্টিগুলোকে তরুণ প্রজন্মের কাছে নিরাপদ ও জনপ্রিয় করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
ইভেন্টের আয়োজক মোহাম্মদ উসমান বলেন, ‘ক্লাব মালিক হিসেবে আমাদের কাজ হলো আয়োজনকে নিরাপদ রাখা। নিরাপত্তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ সিসিটিভির আওতায় পুরো আয়োজন। এছাড়া বাইরে পার্কিং সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই পরিবেশে সবাই আসতে এবং উপভোগ করতে আগ্রহী।’
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ধর্মীয় রীতিনীতির কাঠামোর ভেতরে থেকেই সামাজিক জীবনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে পাকিস্তানের জেনজিরা।
করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার পারভীন বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম ইসলামের রীতিনীতির বাইরে যাচ্ছে না। তারা হালাল জিনিস অনুসরণ করছে। পাকিস্তানের জেন-জিরা ইসলামি কাঠামোর মধ্যে থেকেতই নিজস্ব রীতিনীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তারা ইসলামবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হচ্ছে না।’
ইউরোমনিটরের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে কোমল পানীয় ও কফির বাজার বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। যা যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনের বাজারকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এসব পার্টির একেকটি টিকিটের দাম ৩ থেকে ৭ হাজার পাকিস্তানি রুপি। তাই এসব আয়োজন বেশিরভাগই কেবল পাকিস্তানের উচ্চ-মধ্যবিত্ত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।





