আজ (রোববার, ৮ মার্চ), যুদ্ধের নবম দিনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যদি কোনো দেশ থেকে আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়, আমরা বাধ্য হয়ে তার জবাব দেব। কিন্তু এই জবাবের অর্থ এই নয় যে, ওই দেশের সঙ্গে আমাদের বিরোধ আছে বা আমরা তাদের জনগণকে ক্ষুব্ধ করতে চাই।’
তিনি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। আমরা আঞ্চলিক দেশগুলোর বন্ধু, তারা আমাদের ভাই। আমাদের হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে দেয়া যাবে না।’
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মতপার্থক্য থাকলে তা নিজেদের মধ্যেই সমাধান করা উচিত।’
প্রেসিডেন্ট জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু একটি দল বা গোষ্ঠী নয়, সবাইকে ঐক্য ও সংহতি নিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা আমাদের দেশের জল ও মাটি রক্ষা করতে চাই।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘সব জনগণের উপস্থিতিতে ইরান তার ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও শত্রুর হাতে যেতে দেবে না।’ সশস্ত্র বাহিনী ও বাসিজ বাহিনী সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে এবং তারা সর্বশক্তি দিয়ে দেশ রক্ষা করবে বলেও জানান তিনি।
বেসামরিক হতাহতের প্রসঙ্গ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রশ্নও করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘এত শিশু হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কি লজ্জিত নয়? গাজায় ৫০ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যার জন্য তারা কি লজ্জিত নয়?’
এদিকে আজ (রোববার, ৮ মার্চ) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বর্তমান অভিযানের গতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালাতে সক্ষম ইরান।
বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতিতে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম।’ তিনি দাবি করেন, ‘ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেকটাই অক্ষুণ্ন রেখেছে।’
আইআরজিসির এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। হেগসেথ বলেছেন, ‘ইরান শেষ’, আর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ‘লঞ্চার হারিয়ে ফেলছে।’





