ইরান যুদ্ধে ‘উন্নত এআই টুল’ ব্যবহারের কথা স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

সামুদ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মুহূর্ত
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা বিভিন্ন ধরনের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ তথ্য জানান। একই সময়ে একটি প্রাথমিক সরকারি তদন্তে সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সামরিক ভুলের জন্য মার্কিন বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে—মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (বুধবার, ১১ মার্চ) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অ্যাডমিরাল কুপার প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, ‘এটি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিলতা মোকাবিলায় সেনাদের সহায়তা করে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যোদ্ধারা বিভিন্ন ধরনের উন্নত এআই টুল ব্যবহার করছেন। এসব সিস্টেম আমাদের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করে, যাতে আমাদের নেতৃত্ব শোরগোলের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে শত্রুর প্রতিক্রিয়ার আগেই দ্রুত ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এ প্রযুক্তি যে প্রক্রিয়ায় আগে কয়েক দিন সময় লাগত, তা সেকেন্ডে সম্পন্ন করতে সক্ষম হলেও “কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হবে কি না এবং কখন করা হবে—এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষই নেবে।’

এদিকে মানুষের মাধ্যমে তদারকির আশ্বাস সত্ত্বেও নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারাহ তায়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার প্রাথমিক তদন্তে ‘টার্গেটিং বিভ্রাট’-এর ইঙ্গিত মিলেছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৫০ জন ছাত্রী ও শিক্ষাকর্মী।

তদন্তকারীদের ধারণা করছেন, সেন্টকমের কর্মকর্তারা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সরবরাহ করা পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে হামলার লোকেশন নির্ধারণ করেছিলেন।

উজ্জ্বল নীল ও গোলাপি রঙে রাঙানো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান খেলার মাঠসংবলিত স্কুল ভবনটি ২০১৬ সালে পাশের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। তবে সামরিক ডাটাবেসে স্থানটি সক্রিয় লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই রয়ে যায়।

এতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে—এআই টুল কি স্কুলটিকে বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল, নাকি পুরোটাই মানুষের সিদ্ধান্তের ভুল ছিল।

আরও পড়ুন:

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ক্রেইগ জোন্স দ্য টাইমসকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি না যে এআই স্কুলটিকে স্কুল হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।’

যুদ্ধে এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ‘কিল চেইন’-এর গতি বেড়ে যাওয়ায় নৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বুধবার জানায়, প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন এবং ৭৭টি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও সমালোচনায় যোগ দিয়ে সতর্ক করেছে, ‘জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত অ্যালগরিদমের হাতে তুলে দিলে ‘‘প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণহীনতা‘’ ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এআই ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের পর পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলে উইলসন বলেন, ‘মার্কিন বাহিনীকে সিলিকন ভ্যালির আদর্শিক অবস্থানের কাছে জিম্মি করে রাখা হবে না।’

কীভাবে একটি ‘নিখুঁত’ নির্ভুল হামলা শিশুতে ভরা একটি ভবনে আঘাত হানল—তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন। এ ঘটনা দ্রুতগতির যুদ্ধে এআইয়ের প্রক্রিয়া, ত্রুটিপূর্ণ ও পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য এবং কার্যকর মানুষের তদারকির অভাব একত্রিত হলে কী ধরনের প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা সামনে এনেছে।

এএম