মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে উন্নয়নশীল দেশে খাদ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা

পাকিস্তানের হায়দরাবাদে এক কৃষক মাঠে কাজ করছেন
বিদেশে এখন
0

ইরানের যুদ্ধের কারণে সারের রপ্তানি ব্যাহত হওয়া এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে নতুন করে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ধারাবাহিক বৈশ্বিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা অনেক দেশের অগ্রগতি কয়েক বছরের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করার পর উন্নয়নশীল দেশগুলো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং বিনিয়োগও ফিরছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা ধারনা করছে এখন ইরান যুদ্ধ সেই অগ্রগতি ভেস্তে দিতে পারে এবং অনেক পরিবারকে আবারও খাদ্যসংকটে ফেলতে পারে।

ইউরোপিয়ান ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইবিআরডি) প্রেসিডেন্ট ওদিল রেনো-বাসো বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দামের ওপর, বিশেষ করে খাদ্যের দামের ওপর, বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের প্রায় ৪০টি উদীয়মান অর্থনীতিতে এই ব্যাংকটি বড় ঋণদাতা।’

মুডিস রেটিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেরি দিরোঁ বলেন, ‘অধিকাংশ উন্নত অর্থনীতিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির মধ্যে খাদ্য ও জ্বালানির অংশ এক-চতুর্থাংশেরও কম। কিন্তু অনেক উদীয়মান বাজারে এই হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্ভরতা বহু অর্থনীতিকে বাইরের কারণে সৃষ্ট মূল্য ওঠানামার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। যা চাষাবাদের জন্য সারের চাপে দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের কার্যত অবরুদ্ধ করা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় উৎপাদকরা অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়ার বড় সরবরাহকারী।

আরও পড়ুন:

এদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা সতর্ক করেছে, চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক ইউরিয়া সরবরাহের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এরই মধ্যে ইউরিয়ার দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, ‘সংঘাত যদি আরও কয়েক সপ্তাহও স্থায়ী হয়, তাহলে এটি আবাদে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া বিশ্বে পণ্যের সরবরাহ কমে যাবে বিশেষ করে শস্য, পশুখাদ্য, আর তাই দুগ্ধ ও মাংসেরও এ প্রবাভ দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘খুব কম দেশই এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে। যেহেতু জ্বালানির মতো সারের ক্ষেত্রে কোনো বৈশ্বিক কৌশলগত মজুত নেই। তবে কিছু দেশ অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

যুদ্ধ থেকে অনেক দূরে থাকা এবং জ্বালানি ও কৃষিতে শক্তিশালী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আবাসস্থল লাতিন আমেরিকা তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুরক্ষিত। তবে ব্রাজিলের কৃষিমন্ত্রী কার্লোস ফাভারো সতর্ক করেছেন, দেশটি সার সরবরাহ–সংকটে পড়তে পারে। তেল উৎপাদনকারী নাইজেরিয়ায় ড্যাংগোট সার কারখানা এর প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে সোমালিয়া, বাংলাদেশ, কেনিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সাধারণত বড় সার মজুত রাখে না এবং উপসাগরীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

এএম