রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইআরজিসির এই বিবৃতি আসে। পত্রিকাটি জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে সীমিত আগুন ও সামান্য ক্ষতি হিসেবে দেখালেও বাস্তবে আগুন কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে এবং ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে।
আইআরজিসি ওই প্রতিবেদনকে নিন্দা করে বলেছে, হামলাটির সঙ্গে ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই’। তারা আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের কৌশল বিবেচনায় এটি ‘নিশ্চয়ই জায়নবাদীদের’ কাজ।
বিবৃতিতে মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়, ‘অঞ্চলে জায়নবাদী শাসনের ষড়যন্ত্র চলছে।’ পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোকে ‘মার্কিন-জায়নবাদী আন্দোলনের বিভেদমূলক উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক’ থাকার আহ্বান জানানো হয়, যার লক্ষ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল ও ধ্বংস করা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গতকাল (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলায় আগের তুলনায় বেশি ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
হামলাটি ৩ মার্চ রাতে ঘটে। একটি ড্রোন রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এরপর আরেকটি ড্রোন একই স্থানে আঘাত করে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটায়।
রাতে হওয়া ওই হামলায় দূতাবাসের একটি নিরাপদ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে সাধারণত কয়েক শ কর্মী কাজ করতেন। এতে তিনটি ফ্লোর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সিআইএ স্টেশনও ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্মকর্তারা শুরুতে হামলাটিকে সামান্য আগুন ও সীমিত ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, আগুন কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছিল এবং দূতাবাসের কিছু অংশে বড় ধরনের, অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
পরে রাতেই আরও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ একটি প্রাক্প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে গিয়ে পড়ে। একটি ড্রোন সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের বাসভবন লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছে, যা দূতাবাস থেকে মাত্র কয়েক শ ফুট দূরে।
কর্মকর্তারা বলেন, হামলাটি কর্মঘণ্টায় হলে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা ছিল। তাদের মতে, ইরানের এমন সক্ষমতা সামনে এসেছে, যা একসময় নিরাপদ বলে মনে করা যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোকেও আঘাত করতে পারে।





