সিদ্ধান্ত নেয়ায় অক্ষম মুজতবা খামেনি, কার্যত নিয়ন্ত্রণে আইআরজিসি: গোয়েন্দা প্রতিবেদন

মুজতবা খামেনি
বিদেশে এখন
1

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ এবং শাসনকার্যে অংশ নিতে অক্ষম। এছাড়া তাকে ধর্মীয় শহর কুমে চিকিৎসার অধীনে রাখা হয়েছে বলে এক নতুন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ভাগ করা এক কূটনৈতিক স্মারকে বলা হয়েছে, ‘খামেনি অচেতন’ এবং ‘গুরুতর’ অবস্থায় আছেন। ফলে যুদ্ধের মধ্যে দেশটির নেতৃত্বব্যবস্থা যখন টানাপোড়েনে আছে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস।

খামেনির নীরবতা প্রশ্ন বাড়াচ্ছে

স্মারকে প্রথমবারের মতো খামেনির অবস্থানও জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে কুমে, যা তেহরান থেকে প্রায় ৮৭ মাইল দক্ষিণে এবং শিয়া ধর্মীয় কর্তৃত্বের একটি প্রধান কেন্দ্র। স্মারকে আরও বলা হয়েছে, তিনি ‘শাসকগোষ্ঠীর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে অক্ষম’, যা আগের দাবিকে আরও জোরালো করে যে তার ভূমিকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, যুদ্ধের প্রথম দিনে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা একই বিমান হামলায় খামেনি আহত হন। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।

৫৬ বছর বয়সী ওই নেতার নামে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দুটি বিবৃতি প্রচার করা হলেও তার কণ্ঠস্বরের কোনো যাচাইকৃত অডিও প্রকাশ পায়নি। যুদ্ধকক্ষের ভেতরে তাকে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নির্মিত একটি ভিডিও এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, খামেনি ‘হয় মৃত, নয়তো অত্যন্ত খারাপ অবস্থায়’ আছেন। তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

কার্যত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আইআরজিসি

খামেনির শারীরিক অবস্থার কারণে দেশ পরিচালনায় তার অক্ষমতার কথা বলা হলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এতে খামেনি কেবল প্রতীকী এক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

স্মারকে আলী খামেনির মৃত্যুর পরের প্রস্তুতিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, কুমে একাধিক কবর রাখার উপযোগী বড় একটি সমাধিসৌধ নির্মাণের কাজ চলছে। এ কারণে মুজতবা খামেনিসহ অন্য পরিবারের সদস্যদের সেখানেই দাফন করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে। আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। বাবার মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শীর্ষ পর্যায়ে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে ৮ মার্চ ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস—যা সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় পরিষদ—তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এএম