মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
0

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মন্ত্রীসভার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী শিবিরের অনেক প্রভাবশালী আইন প্রণেতা। সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং বক্তব্যের জেরে ট্রাম্পকে ভারসাম্যহীন ও উন্মাদ ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই দাবি তোলা হয়েছে। ২৫তম সংশোধনীর বিধি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে অপসারণের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবায়নে আছে জটিলতা।

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউজের মসনদে বসার পর একের পর এক নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। যুদ্ধ-বাণিজ্য-অভিবাসনসহ নানা ইস্যুতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যের জেরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় মার্কিন মুল্লুক থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে।

সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে নেমে এসেছে ৩০ শতাংশের ঘরে। ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলে কয়েকদিন পর পর ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নামছেন লাখ লাখ জনগণ। ইরানে হামলার জেরে যা আরও জোরালো হয়। এবার নড়েচড়ে বসছেন ডেমোক্রেটসহ অন্যান্য বিরোধী শিবিরের আইন প্রণেতারাও। অবিলম্বে ট্রাম্পকে অভিশংসন এবং ২৫তম সংশোধনীর আওতায় ক্ষমতাচ্যুত করতে মন্ত্রীসভার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:

১৯০৯ সালে পর দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থানে দেশটি প্রভাবশালী আইন প্রণেতারা। সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং বক্তব্যের কারণে ভারসাম্যহীন ও উন্মাদ ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে ২৫তম সংশোধনীর আওতায় ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি ওঠেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরও বিরোধী দলগুলোর কটু কথা শুনতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি ওঠলেও; বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে জটিলতা। কারণ উল্লেখিত বিধান অনুযায়ী ট্রাম্পকে অপসারণ করতে হলে মন্ত্রীসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সমর্থন বাধ্যতামূলক।

মার্কিন রাজনীতির এই জটিল সমীকরণের মধ্যেই ঘনিয়ে আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্পের অভিশংসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা এখনও কাটেনি। কারণ ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে; শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানরাও ট্রাম্পকে অভিশংসিত করতে তোড়জোড় শুরু করেন কিনা-তাই এখন দেখার বিষয়।

ইএ