বোরো মৌসুমে জিকে সেচ প্রকল্পের পানি পেয়ে, চুয়াডাঙ্গার কৃষকের মুখে হাসি

চুয়াডাঙ্গা
জমিতে পানি দিচ্ছেন কৃষক
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

মৌসুমের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গায় জিকে সেচ ক্যানেলে পানি থৈ থৈ করছে। বিনা খরচে এ পানি ব্যবহার করে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি আবাদ করতে পেরে খুশি কৃষকরা। কয়েক বছর আগেও খরা মৌসুমে ডিজেলচালিত স্যালো মেশিনে সেচ দিতে হতো তাদের।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতেই জিকে সেচ প্রকল্পের ক্যানেলে পানি সরবরাহ শুরু হয়। পদ্মা নদী থেকে দুটি পাম্পের মাধ্যমে তোলা পানিতে এখন চুয়াডাঙ্গার ক্যানালগুলো কানায় কানায় পূর্ণ। সময়মতো পানি পেয়ে বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় জিকে ক্যানেলের আওতায় রয়েছে ৪১ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৭৫ কিলোমিটার সেকেন্ডারি খাল, ২৬৩ কিলোমিটার টারসিয়ারি খাল এবং ২০ কিলোমিটার মাঠনালা। এ বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহজেই কৃষিজমিতে পৌঁছে যাচ্ছে সেচের পানি।

বর্তমানে পানি নিয়ে কোনো ভোগান্তি নাই। আর এভাবে যদি পানি পাওয়া যায় তাহলে আগামীতেও ভালো হবে বলে জানান চাষীরা।

আরও পড়ুন:

জিকে ক্যানেলের আওতায় চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গায় রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর ফসলি জমি। এর মধ্যে শত শত হেক্টর বোরো ধানের জমিতে এরই মধ্যেই ক্যানেলের পানি ব্যবহার হচ্ছে। এতে ডিজেল ও স্যালো মেশিনের অতিরিক্ত খরচ থেকে মুক্তি পেয়েছেন কৃষকরা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘১১৫৫ হেক্টোর জমি সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। জিকে ক্যানেলের মাধ্যমে পানি যদি সঠিক সময়ে দেয়া যায় তাহলে বোরো ধান চাষ আরও বাড়ানো যাবে।’

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশাকরছি আগামীতেও সেচ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

এ মৌসুমে দুটি উপজেলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কৃষক জিকে ক্যানেলের আওতায় সেচ সুবিধা নিচ্ছেন। সময়মতো পানি সরবরাহ অব্যাহত থাকলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক সাশ্রয়ও বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

জেআর