কংগ্রেস থেকে বিজেপি: আলোচিত নেতা শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দু অধিকারী
বিদেশে এখন
0

কংগ্রেসের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি, এরপর তৃণমূলে ঘুরে বিজেপিতে যোগদান। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বারবার দল পরিবর্তন করলেও, নানা ইস্যুতে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ও প্রতিবাদের জন্য শুধু বাংলা নয়, পুরো ভারতবর্ষে পরিচিত নাম শুভেন্দু অধিকারী।

আরজিকর কাণ্ড, অনুপ্রবেশ কিংবা মমতা সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি- ইস্যু পেলেই তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে কার্পণ্য করেন না পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির অন্যতম কাণ্ডারি শুভেন্দু অধিকারী। একের পর এক হুংকার তুলে মমতা প্রশাসনে কাঁপন ধরান নন্দীগ্রামের এ বিজেপি তুর্কি।

নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র শুভেন্দুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি ১৯৮০-র দশকে। কাঁথির প্রভাতকুমার কলেজে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের হাত ধরে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর, ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তবে কংগ্রেসে খুব বেশিদিন থিতু হতে পারেননি শুভেন্দু। ১৯৯৮ সালে দল পরিবর্তন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ২০০৬ সালে জোড়াফুলের টিকিটে কাঁথি দক্ষিণ থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন শুভেন্দু।

এরপর শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনে টার্নিং পয়েন্ট আসে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। সেসময় ১০ হাজার কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে ইন্দোনেশিয়ার একটি কোম্পানিকে রাসায়নিক কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয় তৎকালীন বাম সরকার। এতেই ফুঁসে ওঠে পূর্ব মেদিনীপুর। কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে মমতার শুরু করা আন্দোলনের সেনাপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এসময় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দেন তিনি।

আরও পড়ুন:

সাহসিকতার পুরস্কারও খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যান শুভেন্দু। ২০০৮ সালে মদন মিত্রকে সরিয়ে যুব তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে শুভেন্দুকে বেছে নেন মমতা। এরপর ২০০৯ সালে তৃণমূলকে হেভিওয়েট প্রার্থী লক্ষণ শেঠকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন শুভেন্দু। ২০১৪ সালেও আসনটি থেকে ফের এমপি নির্বাচিত হন তিনি। তবে সেবছর যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে শুভেন্দুকে সরিয়ে সৌমিত্র খাঁকে বেছে নেন মমতা। শুরু হয় মন কষাকষি।

এরপর দ্বন্দ্ব তুঙ্গে ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক রাজনীতিতে নামে লেখালে। যুবা নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন অভিষেক। এসময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বর প্রতি ক্ষোভ ঝাড়েন শুভেন্দু।

তবে ঝড় সামলে নিয়ে ২০১৬ সালে শুভেন্দুকে নন্দীগ্রাম থেকে বিধানসভা আসনের প্রার্থী করেন মমতা। চেনা মাঠে জয় পান শুভেন্দু। দেয়া হয় পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব।

কিন্তু সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর। সেসময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল ভালো ফল না করায় পর্যবেক্ষকের পদ থেকে শুভেন্দুকে সরিয়ে দেয়া হয়। একপর্যায়ে দলীয় পর্যবেক্ষকের পদ তুলে নেন মমতা। সেসময় একাধিক জেলার দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু। দলের সঙ্গে বাড়তে থাকে দূরত্ব। অবশেষে মমতার মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু।

এরপর, ২০২০ সালে মেদিনপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ'র উপস্থিতিতে পদ্মশিবিরে নাম লেখান শুভেন্দু। প্রতিশ্রুতি দেন দলের যেকোনো ভূমিকায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার।

২০২১ সালে নন্দীগ্রাম থেকে মমতাকে হারিয়ে বিজেপির আস্থাভাজন হিসেবে সমাদৃত হন শুভেন্দু। তার কাঁধে রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব তুলে দেন মোদি। এরপর থেকেই পদ্ম শিবিরের পক্ষে জনমত যাচাইয়ে মাঠ-ঘাট চষে বেড়ান শুভেন্দু।

শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীও ছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা। জোড়াফুলের টিকিটে ৩বার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতিও। কিন্তু ছেলের বিজেপিতে যোগদানের পর মমতা সরকারের প্রতি বিরাগভাজন শিশির অধিকারী।

এফএস