‘জয়ে উদার হও, হারে রুখে দাঁড়াও’— আমরাও সেটাই করবো: তৃণমূল নেতা

তৃণমূলের সিনিয়র সংসদ সৌগত রায়
বিদেশে এখন
0

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণার দিনে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আজ (সোমবার, ৪ মে) দলের সিনিয়র সংসদ সৌগত রায় বলেছেন, আমাদের লোকেরা প্রতিরোধ করবে। এছাড়া চার্চিলের একটি উক্তি উদ্ধৃতি করে তিনি বলেন, ‘জয়ের সময় উদার হও, হেরে গেলে রুখে দাঁড়াও— আমরাও সেটাই করবো। তাছাড়া এতে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’

নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফল নিয়ে সৌগত রায় বলেন, ‘২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিপিআইএম প্রার্থী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হেরে গিয়েছিলেন। রাজনীতিতে এটা হয়েই থাকে। এসআইআর ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়নি। কারণ অনেক ভোট কমে গেছে।’

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় মুখ খুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শতাব্দী রায়। তার অভিযোগ— বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর চলছে, কিন্তু পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলেও, কেউ ফোন ধরছেন না। ফলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।’

যদিও সিউড়ি বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জয়ের পর বলেন, ‘বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বাংলার বাঙালি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে বিদায় জানিয়েছে।’

এদিকে ভোট গণনা চলাকালীন সময়ে ভবানীপুর আসনের গণনা কেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির প্রবেশ করা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। মমতার আসার খবর পেয়ে গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারীও।

একসময় প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় ভবানীপুর আসনে। তাদের উভয়ের কাছ থেকেই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর আসনের গণনা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, যতক্ষণ না ওই দুই প্রার্থী গণনা কেন্দ্র থেকে বের হবেন, ততক্ষণ নতুন করে গণনার কাজ শুরু হবে না। পরে মমতা নিজেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। পরে ফের শুরু হয় গণনা।

আবার হেস্টিংস’র গণনা কেন্দ্রে ঢোকার পরেই সেখানকার বিজেপিরসহ অন্য প্রার্থীরা ও তাদের বাট কাউন্টিং এজেন্টরা কমিশনে অভিযোগ জানায়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেককে সেই গণনা কেন্দ্র থেকে বাইরে বেরোনোর নির্দেশ দেয়া হয়।

একটা সময় তাকে দেখে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা চোর স্লোগান দিতে থাকে। পরে দলের এ ফল নিয়ে বিকেলে মুখ খোলেন মমতার ভাতিজা ও দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।

অভিষেক বলেন, ‘মানুষ যে রায় দেবে, সভ্য সমাজের উচিত তা মাথা পেতে নেয়া। এখনো গণনার অনেক সময় বাকি রয়েছে। আমি দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বলবো, তারা যেন গণনা কেন্দ্র ছেড়ে না বেরিয়ে ধৈর্য ধরেন।’

আরও পড়ুন:

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রায় ২ হাজার ৯০০ এর বেশি প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), অভিনেতা হিরন্ময় চ্যাটার্জি (শ্যামপুর), আরজিকর হাসপাতালের নির্যাতিতা ও নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ প্রমুখ।

অন্যদিকে, তৃণমূলের যেসব প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (বালিগঞ্জ), মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (চৌরঙ্গী) প্রমুখ।

অন্য দলগুলোর মধ্যে ভাঙ্গর আসনে জয়ী হয়েছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর) প্রমুখ।

তবে গেরুয়া ঝড়ে এবার তৃণমূলের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক এবং তারকা প্রার্থীরা ধরাশায়ী হয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম মন্ত্রী শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর), মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (উত্তর দমদম), মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (মন্তেশ্বর), মন্ত্রী সুজিত বসু (বিধান নগর), অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি (বরানগর), পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (ব্যারাকপুর), মন্ত্রী রথীন ঘোষ (মধ্যমগ্রাম), উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (দিনহাটা), সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি), অভিনেত্রী লাভলী বন্দ্যোপাধ্যায় (সোনারপুর দক্ষিণ), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাটলিট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ)।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পরাজিত হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকা রয়েছেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর) প্রমুখ।

এসএইচ