রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা ও সমর্থকদের উষ্ণ অভিবাদনের মাঝে বুদাপেস্টের পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করছেন পিটার ম্যাগিয়ার ও তার দলের নবনির্বাচিত এমপিরা।
সংসদের ভেতরে আরেক দফা অভ্যর্থনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মধ্য- ডানপন্থী নেতা ও তিসজা পার্টির প্রধান পিটার ম্যগিয়ার। বার্তা দেন, হাঙ্গেরির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার বলেন, দশকের পর দশক ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। শুধু সরকার নয়, সিস্টেমের পরিবর্তনেও কাজ করব। অঙ্গীকার করছি, তিসজার শাসনামলে আস্থা, মানবতা ও দেশপ্রেমের ভাষাকে আরও শক্তিশালী করব।
ম্যাগিয়ারের শপথে উচ্ছ্বসিত হাঙ্গেরির সাধারণ নাগরিকরাও। তাদের প্রত্যাশা, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার।
অরবানের শাসনামলে লুটপাট, যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। তাই সবকিছু ভুলে নতুন সূচনার জন্য আজকের দিনটি গুরুত্বের।
আরও পড়ুন:
তবে সরকার পরিচালনায় ম্যাগিয়ারকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে আগাম বার্তা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বুদাপেস্টের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজেট ঘাটতি ও দুর্নীতি রোধ করার মতো বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে ম্যাগিয়ারকে। এছাড়াও, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী অরবানের অনুসারীদের প্রভাব কমাতেও বেগ পেতে হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মিত্র হিসেবে পরিচিত ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনামলে ইইউয়ের সঙ্গে বুদাপেস্টের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা ও ইউক্রেন জন্য তহবিল বরাদ্দ আটকে দিয়ে নিজ দেশেই বিতর্কের মুখে পড়েন অরবান।
তবে এরই মধ্যে ইইউ সঙ্গে চুক্তির আভাস দিয়েছেন ম্যাগিয়ার। ফলে অবমুক্ত হতে পারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা তহবিল। অরবানের শাসনামলে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ও আইনের শাসনের অবক্ষয়ের জন্য এই অর্থ আটকে রাখা হয়েছিলো।
গেল এপ্রিলে হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি। ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১৪১ আসনে জয় পায় ম্যাগিয়ারের দল।





