আজ (রোববার, ১০ মে) জমকালো অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণের পর এক আবেগঘন বক্তৃতা দেন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান বিজয়। ভক্তদের উদ্দেশে তার চিরচেনা সেই ‘এন নেনজিল কুদিয়িরুক্কুম’ (আমার হৃদয়ে যারা বাস করেন) বলে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। নিজেকে একজন সহকারী পরিচালকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিজয় বলেন, ‘আমি কোনো রাজকীয় পরিবার থেকে আসিনি। দারিদ্র্য আর খিদে কী জিনিস, তা আমি জানি। অনেক অপমান আর কষ্ট সহ্য করে আজ এখানে পৌঁছেছি।’
বিজয় তার বক্তৃতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুপেয় পানির মতো মৌলিক বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সব ধরনের দেখাশোনা করা হবে। সবকিছু ভালো হবে।’ এ সময় তিনি ডিএমকে সরকারের রেখে যাওয়া ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জনগণের তহবিলের একটি পয়সাও নষ্ট হতে দেব না এবং কাউকে লুটপাটের সুযোগ দেবো না।’
বিজয় তার এই রাজনৈতিক যাত্রায় সমর্থনের জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বাম ও অন্য মিত্রদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, টানা ৬০ বছর পর ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—এই দুই দ্রাবিড় শক্তির বাইরে কেউ তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় বসল। বিজয়ের টিভিকে একক বৃহত্তম দল হলেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন নিতে হয়েছে। বর্তমানে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এই জোটের।
বিজয়ের মন্ত্রিসভায় আরও নয়জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজয়ের বিশ্বস্ত কৌশলী আধভ অর্জুনা, সাবেক বিজেপি নেতা সিটিআর নির্মল কুমার, টিভিকে সাধারণ সম্পাদক ‘বুসি’ আনন্দ, জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব রাজ মোহন এবং ২৮ বছর বয়সী মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য এস কীর্তনা। আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিজয় সরকারকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ বা ফ্লোর টেস্টের মুখোমুখি হতে হবে।





