ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অনাক্রমণ চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান
বিদেশে এখন
0

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। শীতলযুদ্ধে ইউরোপে উত্তেজনা প্রশমনে ১৯৭৫ সালে স্বাক্ষরিত হেলসিংকি অ্যাকর্ডসের আদলে এই চুক্তির কাঠামো তৈরি করছে রিয়াদ। গালফ নিউজ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

১৯৭৫ সালের হেলসিংকি অ্যাকর্ডসে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সীমানা মেনে নিয়েছিল। পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় সম্মত হয়েছিল। সৌদি আরব সেই মডেলেই মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করতে চাইছে।

সৌদি আরবের এই উদ্যোগ ইউরোপীয় দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন পেয়েছে। তবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে সায় দেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে এক আরব কূটনীতিক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এ ধরনের চুক্তিকে ‘অধিকাংশ আরব, মুসলিম রাষ্ট্র এবং ইরান’ স্বাগত জানাবে।

তবে চুক্তির খসড়ায় হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইরান এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম রাখতে চায় এবং এরই মধ্যে জাহাজ চলাচলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনাপদ্ধতি—এমনকি টোল ব্যবস্থা—চালু করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব ও কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র ইরানে হামলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনকে লবি করেছিল। তারা আশঙ্কা করেছিল, যুদ্ধে ইরানের সরকার টিকে থাকলেও দেশটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সিআইএর এক প্রতিবেদন বলছে সেটাই হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের আগের অধিকাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং সরকার পতনের কোনো লক্ষণ নেই।

চলতি মাসে রয়টার্স জানায়, সৌদি আরব মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিয়েছিল। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে সৌদির মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে এবং ইসরাইলের আরও কাছে সরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির দাবি, যুদ্ধের সময় আমিরাতে আয়রন ডোম মোতায়েন করেছিল ইসরাইল। বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, যুদ্ধের সময় তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেছেন। তবে আবুধাবি এই সফরের কথা অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা থমকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নতুন উদ্যোগ আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এএম