আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা তুলে নিচ্ছে মার্কিন বিচার বিভাগ

বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দায়ের করা একটি দেওয়ানি জালিয়াতির মামলা ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানার বিনিময়ে নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি ও তার ভাইপো সাগর আদানি। ২০২৪ সালে ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে কাজ পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়া এবং সে তথ্য গোপন করে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে এই মামলা হয়েছিল। বিবিসির প্রতিবেদন এ তথ্য জানা যায়।

আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হতে যাওয়া এই সমঝোতার খবরে শুক্রবার আদানি গ্রুপের শেয়ারের দর বেড়েছে। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, আদানিরা এসব অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে তারা ভবিষ্যতে জালিয়াতি বা বাজার কারসাজি সংক্রান্ত মার্কিন আইন লঙ্ঘন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর আগে এসইসি অভিযোগ করেছিল, আদানি গ্রিন এনার্জি অ্যান্টি-ব্রাইবারি বা ঘুষবিরোধী আইন মেনে চলছে—এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে আদানি গ্রুপ। এর মধ্যে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা। আদানি গ্রুপ বরাবরই এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে আসছে।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগগুলো তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আদানি তার নতুন আইনি দলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টা রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রকে নিয়োগ দেয়ার পরই বিচার বিভাগ এই অবস্থান নিয়েছে। জিউফ্রা ট্রাম্পের মুখবন্ধি বা হাশ-মানি মামলার আপিল দলেও ছিলেন।

টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জিউফ্রা আদানির বিরুদ্ধে মামলার দুর্বলতাগুলো তুলে ধরেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পরপরই আদানি এই বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন।

সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি ঘুষ সংক্রান্ত মামলাগুলো চালিয়ে না নেয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এটি তারই অংশ হতে পারে। বর্তমানে ৮২ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক গৌতম আদানি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন।

এএম