যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনের দৃশ্য এটি। ফিলিস্তিনিদের নাকবা দিবসের পরদিন শনিবার একই জায়গায় ফিলিস্তিনপন্থি এবং কট্টর ডানপন্থীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে ছড়ায় উত্তেজনা। কারণ উগ্র ডানপন্থীদের ইউনাইট দ্য কিংডম নামের র্যালিটিতে নেতৃত্ব দেয়া অভিবাসন-বিরোধী কর্মী টমি রবিনসন ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে বেশ সমালোচিত। তাই পরস্পর বিরোধী মুখোমুখি সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার শঙ্কায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ।
ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা নিজেদের গণহত্যাবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বলে দাবি করেন। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানান তারা। লাখো মানুষের সমাবেশে অনেক বিক্ষোভকারীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো উগ্র ডানপন্থীদের গুঁড়িয়ে দাও ও ফ্রি প্যালেস্টাইন স্লোগানও।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইসরাইলের আচরণ কল্পনাতীতভাবে অন্যায়। আর হলোকাস্টের পর ইহুদি জনগণের জন্য শুভকামনা জানানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। ফিলিস্তিনি জনগণকে নিজস্ব রাষ্ট্র গঠন এবং শান্তিতে বসবাস করতে না দিলে তাঁরাও শান্তিতে থাকতে পারবে না।
মূলত ফিলিস্তিনপন্থি বিরোধী এবং ইসলাম বিরোধী হিসেবে পরিচিত কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন। যুক্তরাজ্য থেকে ফিলিস্তিনপন্থিদের হটাতে অভিবাসন বিরোধী অবস্থানও জোরালো করে আসছেন তিনি। দাবি তুলেছেন, ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস চুক্তি থেকে বেরিয়ে শুধু যুক্তরাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষার। গত সেপ্টেম্বরেও লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে করা সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রবিনসন।
একজন বিক্ষোভকারী বলেন, আমি মনে করি অতিরিক্ত অভিবাসন অনেক সমস্যার সৃষ্টি করছে। দেশের, ভারসাম্য নষ্ট করছে। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারছি না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উগ্র-ডানপন্থীদের এই সমাবেশে যোগ দিতে চাওয়া ১১ বিদেশি নাগরিককে ব্রিটেনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কিয়ার স্টারমার প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পোল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের বিতর্কিত ডানপন্থী রাজনৈতিক ও অ্যাক্টিভিস্ট রয়েছেন। কট্টর-ডানপন্থীদের সমাবেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর অভিযোগও এনেছে ব্রিটেন সরকার।
পরস্পর বিরোধী দুটি বিক্ষোভ সহিংসতা ঠেকাতে মোতায়েন ছিলো ৪ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে ড্রোন, ঘোড়া, কুকুর ও সাঁজোয়া যান। চালানো হয়েছে ধরপাকড়ও। এদিন ফিলিস্তিনপন্থি এবং উগ্র ডানপন্থীদের বিক্ষোভ থেকে ৪০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে ব্যয় হয় প্রায় ৪৫ লাখ পাউন্ড।
এদিকে ফিলিস্তিনিদের ৭৮তম নাকবা বার্ষিকী উপলক্ষে জার্মানির বার্লিনেও হয়েছে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ। শনিবার ফিলিস্তিনপন্থিদের সমাবেশে পুলিশের পিপার স্প্রে ও লাঠিচার্জের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ।





