গত এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে দক্ষিণ পাকিস্তানে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ওপরে অবস্থান করছে। সিন্ধু প্রদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাচ্ছে, যার ফলে দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও কৃষকরা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। করাচিতে সাধারণত সমুদ্রের বাতাসের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে, কিন্তু এবার সেখানেও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
করাচির উপকূলীয় জনপদগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ইব্রাহিম হায়দারির মতো মাছ ধরার এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের ফলে মানুষের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক অভিজ্ঞ জেলে আব্দুল সাত্তার জানান, তাপদাহে তার এক সহকর্মী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। ২০১৫ সালের ভয়াবহ তাপদাহে করাচিতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনো এলাকাবাসীকে তাড়া করে ফিরছে।
চরম তাপমাত্রার প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। ইব্রাহিম হায়দারি সরকারি হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. সুরেশ কুমার জানান, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে হাসপাতালে আসা শিশুর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন শিশু আসত, এখন সেই সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। অধিকাংশ শিশুই ডায়রিয়া, পেটে সংক্রমণ ও পানিশূন্যতায় ভুগছে।
ভারতের রাজস্থান, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রেও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ গ্রুপের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম তাপদাহের সম্ভাবনা তিন গুণ বেড়েছে।
প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বর্তমান তাপদাহে তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরম এখন আর কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং এটিই দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রূঢ় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।





