সরকারি বিমানে প্রমোদ ভ্রমণ ও বিলাসী ডেট: বিতর্কে এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক বছরের মধ্যেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন কাশ প্যাটেল। সরকারি বিমান ব্যবহার করে প্রেমিকার সঙ্গে বিলাসবহুল ডেট এবং পার্ল হারবার সামরিক স্মৃতিসৌধে ‘ভিআইপি স্নরকেলিং’ বা ডুব সাঁতার কাটার মতো ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ১০ মে কাশ প্যাটেল ও তার প্রেমিকা আলেকজিস উইলকিন্স ওয়াশিংটন থেকে ফিলাডেলফিয়ায় একটি কনসার্ট দেখতে এফবিআইয়ের নিজস্ব ‘গালফস্ট্রিম ফাইভ’ বিমানে ভ্রমণ করেন। সেখানে একটি প্রাইভেট সুইটে বসে তারা অনুষ্ঠান দেখেন, যার খরচ সাধারণত ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এছাড়া উইলকিন্সের নিজস্ব কনসার্টে যোগ দিতেও প্যাটেল সরকারি বিমানে ভ্রমণ করেছেন এবং বিমানটি পরে তাকে ন্যাশভিলে পৌঁছে দেয়। যদিও এফবিআইয়ের নীতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত ভ্রমণে সরকারি বিমান ব্যবহারের খরচ বাণিজ্যিক হারের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে হয়, তবে প্যাটেল সেই অর্থ দিয়েছেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে হাওয়াইয়ের পার্ল হারবার স্মৃতিসৌধে প্যাটেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে। ১৯৪১ সালে জাপানি হামলায় নিহত ৯০০ নৌ-সেনার পবিত্র সমাধি হিসেবে পরিচিত এই স্থানে প্যাটেল ও তার সঙ্গীরা নৌবাহিনীর বিশেষ বোট ব্যবহার করে ‘ভিআইপি স্নরকেলিং’ করেন।

পানির নিচে ডুবে থাকা ‘ইউএসএস অ্যারিজোনা’ রণতরির চারপাশে তারা প্রায় ৩০ মিনিট সাঁতার কাটেন। ১৯৯৩ সালের পর এফবিআইয়ের কোনো পরিচালককে এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে সাধারণ দর্শনার্থীদের সেখানে সাঁতারের পোশাক পরাও নিষিদ্ধ।

কাশ প্যাটেলের প্রেমিকা আলেকজিস উইলকিন্সকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। গত মাসে পেনসিলভানিয়ায় মাদক পাচার সংক্রান্ত একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উইলকিন্সকে টেবিলের প্রধান আসনে বসে থাকতে দেখা যায়।

এছাড়া তাকে সার্বক্ষণিক সরকারি নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে, যা আগের কোনো এফবিআই পরিচালকের পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। শুধু উইলকিন্সের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পেছনেই সরকারের বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মিলান অলিম্পিকে মার্কিন হকি দলের ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সাথে প্যাটেলের উদযাপনের ছবি ভাইরাল হলে সমালোচনা শুরু হয়। যদিও প্যাটেল একে সাইবার অপরাধের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সফর বলে দাবি করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পেশাগত দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত বিলাসিতার সীমারেখা মুছে ফেলে কাশ প্যাটেল যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করছেন, তা এফবিআইয়ের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।

এএম