হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাংকার চলাচল শুরু; ইরান চুক্তির আভাস ট্রাম্পের

জেডি ভ্যান্স
বিদেশে এখন
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইতিবাচক মন্তব্যের পর ইরান সংকটের সমাধানের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। আজ (বুধবার, ২০ মে) হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী দুটি চীনা ট্যাংকার পার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এক বড় অগ্রগতি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল (মঙ্গলবার, ১৯ মে) এক বক্তব্যে বলেন, এই যুদ্ধ ‘খুব দ্রুতই’ শেষ হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’

তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব আসার পর ট্রাম্প ইরানে হামলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার, ১৯ মে) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজই হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে আমি তা স্থগিত করেছি।’ তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতারা এখন একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছেন। তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আগামী নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের আকাশচুম্বী দাম তার জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে। লয়েড রেজিস্ট্রি ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল নিয়ে দুটি চীনা সুপারট্যাংকার বুধবার এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে। এই খবরের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে নেমে আসে।

অবশ্য আলোচনার টেবিলে এখনো অনেক জটিলতা রয়ে গেছে। জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, ইরানের নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কারণে অনেক সময় তাদের প্রকৃত অবস্থান বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তেহরানের নতুন প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেয়ার শর্তও রয়েছে তাদের প্রস্তাবে। তবে ট্রাম্প গত সপ্তাহেও ইরানের এমন শর্তকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি অভিযানে কয়েক লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও তার মিত্রদের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোও। ট্রাম্প ও বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য। তবে তিন মাসের এই যুদ্ধ ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব থেকে এখনো পিছিয়ে দিতে পারেনি। বরং সব চাপ মোকাবিলা করে দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এএম