পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভাল্ডেজ সোমবার জানান, প্রেস অফিসটিকে এখন থেকে ‘সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ওই দপ্তরে ভাষণ-লেখকেরা অত্যন্ত গোপনীয় সরকারি তথ্য নিয়ে কাজ করেন এবং তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ‘এসআইপিআরনেট’ প্রয়োজন হয়।
ভাল্ডেজ আল জাজিরাকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এর ফলে সাংবাদিকেরা এখন থেকে আর এই অফিসে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে জনবিষয়ক বিভাগ ও প্রেস সচিবের কার্যালয়ে প্রবেশের জন্য আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা অনুমতি নিতে হবে।’
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সামরিক বাহিনী ও সরকারের অন্যান্য স্তরে গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছিল, পেন্টাগনে সংবাদমাধ্যমগুলো আর নিজেদের স্থায়ী অফিস রাখতে পারবে না। এ ছাড়া পেন্টাগন চত্বরের ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে সাংবাদিকদের সাথে সার্বক্ষণিক একজন সরকারি ‘এসকর্ট’ বা প্রহরী থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নীতির বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্ক টাইমস ইতিমধ্যে আদালতে মামলাও করেছে।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের প্রধান সংগঠন ‘ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব’ এই কড়াকড়িকে একটি ‘উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনের সভাপতি মার্ক শোফ জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়ে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। সাংবাদিকদের যদি মূল প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে ঠেলে দেয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতা থেকে বঞ্চিত হবে। যারা একটি মুক্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ চান, তাদের সবার জন্যই এই খবরটি উদ্বেগের।’
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থার অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টারন বলেন, ‘বর্তমানে পেন্টাগনের প্রেস অফিস থেকে খুব সামান্যই সত্য তথ্য বের হয়। তাই তারা কোন যুক্তিতে এই জায়গাকে গোপনীয় বলছে, তা বোঝা মুশকিল। পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত তথ্যের একমাত্র গোপন বিষয় হলো—এগুলো সত্য নয়।’





