আজ (মঙ্গলবার, ২ জুন) ভোররাত থেকে চালানো এই হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। কিয়েভে গুঁড়িয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো সেখানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকাতেই বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়।
দখলকৃত পূর্ব ইউক্রেনের একটি ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগে গত সপ্তাহে রাশিয়া কিয়েভে ‘পদ্ধতিগত হামলার’ হুমকি দিয়েছিল। রাশিয়ার সেই দাবির বিপরীতে কিয়েভ জানিয়েছিল, তারা কোনো বেসামরিক স্থাপনায় নয় বরং একটি রুশ সামরিক ইউনিটে আঘাত হেনেছে।
হামলার পর কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, ‘শত্রুরা ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।’ হামলায় কিয়েভের বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের অনেক এলাকা এখন অন্ধকারে।
এদিকে রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই জরুরি সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর সেখানকার ইলস্কি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের মেয়র ইহর তেরেখভ জানিয়েছেন, সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলেও একটি শিল্প কারখানায় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৭০০-এর বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার মধ্যে ৬৪২টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনের আগের হামলার জবাবে এই ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
গত সোমবারই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মে মাসে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই কিয়েভে বারবার বড় ধরনের হামলা চালাচ্ছে মস্কো। এর আগে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু ছিল।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই হুমকিকে ‘লজ্জাহীন ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিয়েভ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমা মিত্রদের চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।





