১৯৭১ সাল থেকে চলে আসা পাঁচ দশকের পুরোনো এই বার্ষিক মহড়া আগামী ৪ জুন শুরু হয়ে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। এবারের মহড়ায় ১৫টি দেশের প্রায় ২০টি জাহাজ এবং ৬ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছেন। বাল্টিক অঞ্চলে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই আয়োজন করা হলেও গত বছরের তুলনায় এবারের মহড়ার আকার প্রায় অর্ধেক।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহড়ার আকার ছোট হওয়ার অর্থ এই নয় যে ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি কমে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি এবং আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন ও পশ্চিমা নৌবাহিনীগুলো বেশি ব্যস্ত থাকায় বাল্টিক সাগরে জাহাজের সংখ্যা কিছুটা কমাতে হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটোবিরোধী নানা সমালোচনা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন এই মহড়ায় তাদের অন্যতম প্রধান জাহাজ ‘মাউন্ট হুইটনি’ পাঠাচ্ছে।
জার্মান রিয়ার অ্যাডমিরাল স্টিফান হাইশ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এবং ন্যাটোর ব্যাপক অংশগ্রহণে এই বড় মাপের মহড়া পরিচালনা করা জোটের শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। এটি সব মিত্র দেশের ঐক্য ও শক্তির প্রতীক।’ আঙ্কারা ও মস্কোর সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জার্মানির রোস্টক শহরে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ সদর দপ্তর এই মহড়াটি পরিচালনা করবে।
এবারের ‘ব্যালটপস’ মহড়াটি বাল্টিক সাগরের পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে। সুইডেনের গোটল্যান্ড দ্বীপের চারপাশের সমুদ্রপথ রক্ষা এবং রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করার মহড়া দেয়া হবে এখানে। বাল্টিক দেশগুলোর জন্য এই সমুদ্রপথগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংকটের সময় স্থলপথের সংকীর্ণ করিডোর ছাড়াও এই পথেই মূল রসদ পৌঁছানো সম্ভব।
রুশ উস্কানির বিষয়ে হাইশ বলেন, বাল্টিক অঞ্চলে উত্তেজনা থাকলেও রাশিয়া এমন কোনো সীমারেখা অতিক্রম করবে বলে তিনি মনে করেন না, যাতে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বা ‘আর্টিকেল ৫’ সক্রিয় করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি ধরে নিচ্ছি রাশিয়া আমাদের পরীক্ষা করার চেষ্টা করলেও তারা বড় কোনো যুদ্ধে জড়াবে না।’





