আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি গ্রহণ কেন্দ্র উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে ভবনে হামলা হয়েছে, তার মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পরমাণু সরঞ্জাম মজুত রাখা আছে। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইএইএ-কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা ‘এনারগোঅ্যাটম’ জানিয়েছে, হামলার সময় ওই ভবনটিতে কোনো জ্বালানি মজুত ছিল না। হামলার পর সেখানে আগুন ধরে গেলেও তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
১৯৮৬ সালে বিশ্বের ভয়াবহতম পরমাণু বিপর্যয়ের সাক্ষী চোরনোবিল কেন্দ্র থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এই স্থাপনাটি অবস্থিত। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, ‘একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া অত্যন্ত জঘন্য এই হামলা চালিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া এই হামলায় শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে।’ বর্তমানে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাশিয়ার এমন বেপরোয়া আচরণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইএইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাব সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই ওই এলাকা পরিদর্শন করবে। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও রাশিয়ার শাহেদ ড্রোনের আঘাতে চোরনোবিলের একটি সুরক্ষা তোরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের শহর ও অবকাঠামোতে হামলা চালালেও চোরনোবিলের ওই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছিল।
ইউক্রেন ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্র ‘জাপোরিঝঝিয়া’ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে আসছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের ওই কেন্দ্রটি বর্তমানে রুশ বাহিনীর দখলে রয়েছে।





