সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের মহান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে, গত রাতে হরমুজ প্রণালিতে টহল দেয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।’ তিনি আরও জানান, হেলিকপ্টারটিতে দুজন পাইলট ছিলেন এবং তারা দুজনেই বর্তমানে নিরাপদ ও অক্ষত আছেন। তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর প্রয়োজনীয় জবাব দিতেই হবে।’
ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি তার আগের করা দাবিগুলোকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গত এপ্রিলেই তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় শেষ। এমনকি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ব্যবস্থা শতভাগ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনা এবং এ সপ্তাহে ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করছে যে, তেহরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ট্রাম্প একদিকে বলছেন আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে শান্তিচুক্তি হতে পারে, অন্যদিকে নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এর আগেও বহুবার চুক্তির কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
রণাঙ্গনের চিত্র বলছে, গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ৩০টি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী, তবুও ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বাহিনীর অবাধ বিচরণ যে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট।





