পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে এতবছর ওয়ারহেড এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছিল ভারত। কিন্তু এই প্রথমবার ভূগর্ভস্থ মিসাইল সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে দেশটি। যেগুলো যে-কোনও মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর অভিযানে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে দিল্লির এই পদক্ষেপ ওঠে এসেছে। এতে দাবি করা হয়, এই প্রথমবার পারমাণবিক বোমা অস্ত্রাগারে মোতায়েন না করে অভিযানে থাকা বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করলো ভারত। তবে এই পদক্ষেপকে ঠিক পারমাণবিক সক্ষমতার আক্রমণাত্মক হুঁশিয়ারি হিসেবেও দেখছে না প্রতিষ্ঠানটি।
প্রশ্ন ওঠেছে, হুট করেই শান্তিকামী পারমানবিক নীতির দেশটি চাঞ্চল্যকর এমন পদক্ষেপ কেন নিয়েছে?
এসআইপিআরআই-এর ধারণা, ২০২৫ সাল থেকেই ভারত পারমাণবিক অস্ত্রাগার বড় করে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করছে। অগ্নি-৫ এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য চীনের সমগ্র ভূখণ্ডে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে লক্ষ্যবস্তু যদি পাকিস্তান হয় সেটিও যেন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাতের আওতায় রাখা যায়, এটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এরকম পরিস্থিতিতে, সংস্থাটির দাবি, ভারত পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত ১৯০টিতে উন্নীত করেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে তিনটি এসএসবিএন পরিচালনা করে: আইএনএস আরিহান্ত, আইএনএস আরিঘাট এবং আইএনএস আরিধামান।
প্রতিবেদন বলছে, ভারতের রয়েছে ১৬টি জাগুয়ার ওয়ারহেড এবং ৩২টি মিরাজ ২০০০ এইচ, ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ২৪টি পৃথ্বী-২ , ১৬টি অগ্নি-১, ১৬টি অগ্নি-২, ১৬টি অগ্নি-৩, আটটি অগ্নি-৪ এবং আটটি অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া আরও একটি মাঝারি-পাল্লার অগ্নি-পি এবং একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৬ নির্মাণাধীন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কিন্তু ভারতের এসব সংগ্রহকে এখানকার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখার মতো নয় বলেও মতামত দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ইতিবাচক এই মতের পেছনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'প্রথম ব্যবহার না করার' নীতিকে সামনে এনেছে এসআইপিআরআই।
ভারতের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার রয়েছে, তারা কখনও পারমাণবিক হামলা শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ নেবে না। নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র শুধু নিজ ভূখণ্ড বা ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ব্যবহার করা হবে।





