ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন, যাদের ইরানে ফেরত পাঠালে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের আইনজীবী এমিলি ট্রোস্টল জানান, একজন ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান নারী এবং অপরজন গণতন্ত্রপন্থী কর্মী। উভয় নারীই ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর আটক হন এবং আশ্রয়ের আবেদন করেন। একটি মার্কিন অভিবাসন আদালত তাদের 'উইদহোল্ডিং অব রিমুভাল' নামে পরিচিত এক ধরনের সুরক্ষা দিয়েছে, যার মানে বিচারকেরা মনে করেছেন তাদের ইরানে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশের বেশি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে প্রথম ফ্লাইটে প্রায় ২০ জনকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এদের মধ্যে ইরানিদের পাশাপাশি সিরিয়ান ও আফগানরাও রয়েছেন। দুই আইনজীবী জানিয়েছেন, বিমানটি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ছেড়ে যেতে পারে। রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে পালানো এক তুর্কি নাগরিকও এই ফ্লাইটে থাকতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসন 'তৃতীয় দেশে নির্বাসন' পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে যাদের আইনত নিজ দেশে পাঠানো সম্ভব নয় তাদের অন্য কোথাও পাঠানো হচ্ছে। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ ধরনের একটি চুক্তি করেছে। নির্বাসিতদের দেশটির রাজধানী বাঙ্গুইতে বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে পাঠানো হবে না। এই চুক্তির আওতায় শেষ পর্যন্ত কয়েক শ অভিবাসীকে পাঠানো হতে পারে বলে কর্মকর্তা জানান।
ইরানিয়ান আমেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডের অন্তর্বর্তী আইনি পরিচালক আলী রাহনামা বলেন, 'ঠিক যে মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণকে ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা ও সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তারা একই শাসনব্যবস্থা থেকে পালিয়ে আসা ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের তাদের ধ্বংসের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে।'
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতার পর থেকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বারবার অস্থিরতার শিকার হয়েছে এবং দেশটির ৫৫ লাখ মানুষের বেশিরভাগই দারিদ্র্যে দিন কাটাচ্ছে। দেশটিতে রাশিয়ান ভাড়াটে সেনা ও রুয়ান্ডার সেনাবাহিনী সরকারকে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বছর দেশটিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কার্যক্রমের জন্য ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে।





