ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই অর্থনীতিতে সরকার এতদিন তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে প্রাবোওয়ের ব্যয়বহুল সব পরিকল্পনার কারণে বাজেটে আর্থিক চাপ বাড়তে থাকায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীরা এই সময় ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাতিল করো’ এবং প্রাবোওয়ের মন্ত্রিসভাকে ‘লজ্জার দেয়াল’ হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শন করেন।
ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়ার ছাত্রনেতা ইয়াতাল্লাথফ মাশউম ইমাওয়ান বলেন, বিক্ষোভকারীদের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রাবোওয়ের প্রধান কর্মসূচি ‘বিনামূল্যে খাবার’ ও গ্রাম সমবায় প্রকল্প বন্ধ করা, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং ‘অপব্যয়ী’ খরচ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারী রাফায়েল আরেভা বলেন, ‘বিনামূল্যে খাবারের পেছনে অপব্যয়ের কারণে এমন এক আর্থিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আগে দেয়া ভর্তুকিগুলো এখন তুলে নেয়া হচ্ছে।’
বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বাড়ানোর যে উদ্যোগ প্রাবোও নিয়েছেন, তারও তীব্র সমালোচনা করেন ছাত্র ও অধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর আমলের মতো স্বৈরতান্ত্রিক যুগে ফিরে যেতে পারে। ইয়াতাল্লাথফ বলেন, ‘আমরা দেখাতে চাই যে পরিস্থিতি ঠিক নেই। আমরা চাই না ইন্দোনেশিয়া সত্যিই দেউলিয়া হোক। কিন্তু এসব আচরণ প্রমাণ করে যে ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে।’
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শত শত ছাত্র বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সময় পুলিশ ও সামরিক বাহিনী তাদের পথ আটকে দেয়। পুলিশি বাধা ও মেটাল ব্যারিকেড ভেঙে ছাত্ররা এগোতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয়ার বিষয়ে জাকার্তা পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ৮ কোটি ৩০ লাখ শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীকে বিনামূল্যে খাবার দেয়ার যে কর্মসূচি প্রাবোও গ্রহণ করেছেন, সেটিকে সমালোচকরা অদক্ষ ও দুর্নীতিপ্রবণ হিসেবে দেখছেন। এছাড়া এই কর্মসূচির খাবার খেয়ে হাজার হাজার শিশু খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় এর পরিচালনা ও তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।





