জনসংখ্যা সীমিত করতে সুইজারল্যান্ডে গণভোটের আয়োজন

সুইজারল্যান্ড
বিদেশে এখন
0

সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে আয়োজন করা হয়েছে গণভোটের। আগামী ১৪ জুন অনুষ্ঠিত এই গণভোটকে অনেকে সুইস ব্রেক্সিট বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এরইমধ্যে এই ইস্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভেদ। গেল ২২ বছরে দেশটিতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়েছে ১৮ লাখ। অর্থনৈতিক দুর্দশা সামাল দিতে জনসংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সুইস সরকার।

২০০২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর বাসিন্দাদের অবাধ চলাচল চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে সুইজারল্যান্ডে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২২ বছর আগে দেশটিতে জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ, ২০২৫ সালে যা বেড়ে ৯১ লাখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে জনসংখ্যার প্রায় ২৮% বিদেশি।

২০৩১ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ৯৫ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০৪২ সালে তা ১ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এরইমধ্যে জনসংখ্যা সীমিত রাখতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে সরকার। কারণ জনসংখ্যা কোটির ঘর ছাড়ালে বাতিল হয়ে যাবে জন্মহার বৃদ্ধিতে সহায়ক আন্তর্জাতিক সহায়তা।

এমন অবস্থায়, সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে আগামী ১৪ জুন গণভোট গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবটি নিয়ে এরইমাঝে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভেদ। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, জনসংখ্যা সীমাবদ্ধতার পক্ষে ৪৭% এবং ৫২% বিপক্ষে।

যদিও এই গণভোটকে অনেকে ব্রেক্সিটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অভিবাসন, আবাসন এবং জনসেবা বিষয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে কাজে লাগাতে এই ভোটে আয়োজন করেছে ডানপন্থী দলগুলো। গণভোট সুইস রাজনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে বছরে চারবার ভোট দেন বাসিন্দারা।

তবে বিরোধীরা বলছে, প্রস্তাবটি পাস হলে উদ্বেগের মধ্যে পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য। ধাক্কা খাবে দেশটির অর্থনীতি। দক্ষ শ্রমিক সংকট ও বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গ্রিন পার্টির সুইস আইনপ্রণেতার ডেলফিন ক্লোপফেনস্টাইনের মতে, সুইজারল্যান্ড দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইসদের অবাধ চলাচলের অনুমতিসহ যাবতীয় চুক্তিগুলো দেশটিকে ইউরোপীয় একক বাজারে প্রবেশাধিকার দেয়।

অনেক ইউরোপীয় দেশের মতো সুইজারল্যান্ডও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সুইস পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য মতে, ২০৫৫ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত।

ইএ