২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিন অং হ্লাইংয়ের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও চীন তাদের প্রধান মিত্র হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থি বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। শি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে সংলাপে জোর দিয়ে বলেন, ‘চীন মিয়ানমারের সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও পুনর্মিলন এবং উত্তর মিয়ানমারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জনে সমর্থন করে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশ সব সময় ‘সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে ছিল।’
গত এক বছরের মধ্যে শির সঙ্গে এটি মিন অং হ্লাইংয়ের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নিলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন সফর তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে দুই দেশের মধ্যে অনলাইন জুয়া ও ইন্টারনেট জালিয়াতি চক্রের বিস্তার নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। শি জিনপিং এসব অপরাধ এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে দুই দেশকে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেয়ার আহ্বান জানান।
গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে এক ঘণ্টারও কম সময়ের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে ১৮টি সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে মেকং উপ-অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত পরিবহন, মুক্ত বাণিজ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম খাত উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের আওতায় মিয়ানমারে তেল ও গ্যাস পাইপলাইনসহ একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ চলছে, যদিও এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই বর্তমানে যুদ্ধকবলিত এলাকায় অবস্থিত।





